শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ফেরাউন-হিটলার-এরশাদ টিকতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না: মির্জা ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নির্যাতন-নিপীড়ন-হত্যা করে চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ফেরাউন পারেননি, নমরুদ পারেননি, মুসোলিনি পারেননি, হিটলার পারেননি, আইয়ুব খান পারেননি, এরশাদ পারেননি। একাত্তরের পর আওয়ামী লীগও পারেনি- আপনারাও পারবেন না।’

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে তাকান, সভ্যতার দিকে তাকান। এইভাবে নির্যাতন করে, নিপীড়ন করে, খুন করে, হত্যা করে-কেউ চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আপনিও পারবেন না।’

ছাত্রলীগের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতির নাম এখন হয়েছে ‘ফেয়ার অ্যান্ড শেয়ার’। যেখানে এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। তিনি ইতোমধ্যে ১ কোটি টাকা নাকি দিয়ে দিয়েছেন। তাহলে শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কেন শাস্তি হবে তাকেও রিজাইন দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিন রাতে গোপনে ছাত্র ভর্তি করছে। দুর্নীতি মুক্ত জায়গা কোথায়? প্রতিটি জায়গা, পরীক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’

এ বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমার কাছে একটি নতুন খবর আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘুষ চাওয়ার অপরাধে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করা হয়েছে, এটাকে আবার নতুন নাম দিয়েছে তারা। কি দিয়েছে বলুন তো? ফেয়ার শেয়ার। ৫%-১০% ঘুষ যে নেবে, এটা হলো ফেয়ার শেয়ার। এই ফেয়ার শেয়ারের মধ্যে আবার এখন ভাইস চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। উনি নাকি ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত তার পদত্যাগ করা উচিত। না হয় তাকে অব্যাহতি দেয়া দরকার।

সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি চলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি চলছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, হাজার চেষ্টা করেও থলের বিড়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কালো বিড়ালের মতো বের হয়ে আসছে এবং এগুলো এখন জনগণের কাছে পুরোপুরি চলে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্র ভর্তি করছেন রাতের বেলায়। কোথায় আছে দুর্নীতিমুক্ত জায়গা? প্রতিটি জায়গায় পরীক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারালয় কোথাও যাওয়া যায় না।

গণতন্ত্রের পক্ষ শক্তিকে সরকার নিশ্চিহ্ন করতে চায় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের সরকার নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাদের পথকে বন্ধ করে দিচ্ছে। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারাটা জীবন লড়াই করেছেন, সেই নেত্রীকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বড় ঐক্য। আসুন সবাই মিলে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে নামি।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জামিন নিশ্চিত করতে হবে। কেন তাকে আটকে রেখেছেন? এত ভয় পান কেন? যে মামলায় তাকে আটক করে রাখা হয়েছে সাজা দেওয়া হয়েছে এই ধরনের মামলাতে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতারা জামিন নিয়ে বাইরে আছেন। অথচ খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

এই সরকারের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোটের আগের রাত্রে ভোট ডাকাতি করে, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়। আর এইভাবে টিকে থাকার জন্যে তারা দমন, পীড়ন ও অত্যাচারের পথ বেছে নেয়। আজ ১ লাখ মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ২৬ লাখ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক কোনো দলের ওপর এই ধরনের নির্য্তন হয়েছে আমাদের জানা নেই। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভীতটাকেই নষ্ট করছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বিচারবিভাগকে দলীয়করণ করছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং বহুলাংশে তারা সফল হয়েছে। আজ ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। কথা বললে তুলে নিয়ে যাবে, মামলা হবে। যারা বুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক আছেন তারাও কথা বলার সাহস আনতে পারছেন না। কারণ কখন রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে সেটা তারা জানেন না। এটা একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র যাকে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করে চলে।’

ফখরুল বলেন, কালকে আমাদের পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি কমিশনার) ভালো ভালো কথা বলেছেন। তার একটা কথা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। যদি কেউ কোনো কাজ না করে এবং সেবার বিনিময়ে যদি কোনো অর্থ দাবি করে, তা হলে আমাদের জানাবেন, আমরাই গিয়ে সেখানে বসব।

ফখরুল বলেন, যারা মিথ্যা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, জোর করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে থাকে, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এটি অবৈধ সরকার, অবৈধ পার্লামেন্ট।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমানের (বীরপ্রতীক) সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত