শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দেশ ভয়াবহ সংকটে, উত্তরণে দরকার বৃহত্তর ঐক্য: ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দেশে এক ভয়াবহ সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশে একদলীয় শাসন ভর করেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবমিলিয়ে বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি। এই সংকট থেকে উত্তরণে দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার। এটি ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার মুক্তিও সম্ভব নয়।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে একথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তার মুক্তি দিতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আরও কর্মসূচি দেয়া হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সবার চাওয়া একটি, সেটি হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাঠে নামতে হবে। আন্দোলন করতে হবে।

সরকার প্রশাসনকে দখল করে ক্ষমতায় টিকে আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর এদেশে কোনো ভোট হয়নি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। সরকার জোরজবরদস্তি করে টিকে আছে। তারা অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে আটকে রেখেছে। কারণ একটাই, তিনি বাইরে থাকলে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এ অবৈধ সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আজকে বিচার বিভাগ, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে।’

সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। দেশ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে।

‘নতজানু’ পররাষ্ট্র নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘আজকে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ তাদের সেই বৈধতা নেই, সাহস নেই। নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে তারা আজ এ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘আসাম থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি স্বাধীনতার পরে। বাংলাদেশকে আবারও বিপদগ্রস্ত করার জন্য গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস অত্যন্ত বেড়ে গেছে, গায়ের ব্যথা বেড়ে গেছে, তিনি কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ারে চলছেন। কিন্তু এ সরকার, তার কর্মকর্তারা এবং ডাক্তাররা বলছেন তিনি নাকি সুস্থ হয়েছেন। মূলত তিনি একেবারে সুস্থ নন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারারুদ্ধ দিন পার করছেন। আমরা তার সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখছেন কীভাবে লুট করছে; কীভাবে দুর্নীতি করছে। আজকে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। দুর্নীতির টাকা তারা দেশে-বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসে না বলেই গণতন্ত্রহীন একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

দেশবাসীর উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আসুন আজকে নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। তাদের সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়াকে দুটি মিথ্যা মামলায় বন্দি রাখা হয়েছে। দেড় বছর হতে চললো, তিনি জেলখানায়। তার একটি মাত্র কারণ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না। আর এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। আমরা আইনি এই লড়াই চালিয়ে যাবো। আমাদেরকে এর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সারা দেশে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে। এবং সে জন্য কর্মসূচী দিতে হবে। একমাত্র রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তি আমরা অর্জন করতে পারি।

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের মনে হয় বেশি দিন মানববন্ধন চলবে না। আমাদের দানববন্ধন কর্মসূচি দিতে হবে। তাই মানববন্ধন পরিহার করে ‘দানববন্ধন’ ভিত্তিক কর্মসূচি পালনেরর পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের জন্য আদালত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীর মুক্তিতে আদালতের অপেক্ষায় থাকা তার জন্য অসম্মানজনক। যে আদালত নিজে চলতে পারে না, চিন্তা-ভাবনা প্রয়োগ করতে পারে না, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাইরে এক কদম হাঁটতে পারে না। সেই আদালদের ওপর নির্ভরশীলতা আর খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা একই কথা।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার একমাত্র বাধা, তাহলে সরকার পতনের আন্দোলনই আগে করব। তারপর খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হয়ে আসবেন।’

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মজিবুর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, কেন্দ্রীয় নেতা মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেব দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত