বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এটি মানবজাতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিপর্যয় মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টালে তৃতীয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মন্ত্রী পর্যায়ের ‘সুনীল অর্থনীতি সম্মেলন’ উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের কারণে আমাদের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিপর্যয় মোকাবেলায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সাগর অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘মহাসাগরের সম্পদ রক্ষায় আমরা যত বেশি পদক্ষেপ নেব, তা আমাদের জন্য তত ভালো ফল বয়ে আনবে। সমুদ্রকেন্দ্রিক অপরাধ ও দূষণ বিষয়ে সবাইকে সর্তক হওয়ার পাশাপাশি এসব বন্ধে সব দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দূষণসহ নানা কারণে আমাদের সাগর আজ ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন।’

তিনি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ আহরণ, পরিবেশ দূষণ, তেল নিঃসরণ, প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা দূষণ, শব্দ দূষণ ও সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তন এসবের অন্যতম কারণ। এরফলে সাগর/মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

‘শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ আইওআরএ (IORA) সদস্যভুক্ত দেশগুলো সুনামি ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারাও আক্রান্ত হয়।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎকে বিপদগ্রস্ত করে তুলছে এবং মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আসন্ন বিপর্যয় মোকাবিলায় সবাই মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাগর ও মহাসাগর গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশই শোষণ করে। Marine Ecology (সমুদ্র বাস্তুতন্ত্র) ধ্বংস হলে মানবজাতির অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

‘অতিসত্বর সবাই মিলে এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’

সমুদ্রকেন্দ্রিক অপরাধের বিষয়ে সবাইকে সর্তক এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রকে কেন্দ্র করে সংগঠিত সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, মহাসাগর ও তার বিপুল সম্পদ সংরক্ষণে আমরা যত বেশি বিনিয়োগ করবো, যত বেশি পদক্ষেপ নেবো তা সামগ্রিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

ক্ষতিকর উপায়ে সমুদ্র সম্পদ আহরণে বাংলাদেশের নেওয়া ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রের জৈবসম্পদ সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকার মৎস্য আহরণের সব ধরনের ক্ষতিকারক পদ্ধতি ও উপায়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য অপরাধ দমনেও কার্যকর আইন প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। খেয়াল রাখতে হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে গিয়ে যেন সমুদ্রের সুস্থ পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়। তাই আমাদের সুনীল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুনীল চিন্তাও করতে হবে।

‘সে লক্ষ্যে সমন্বিত, লাভজনক ও সর্বোপরি সমুদ্র সংরক্ষণমূলক নীতি নির্ধারণ ও সে অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত