বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রওশনকে চেয়ারম্যান ঘোষণায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা: জিএম কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের একাংশের ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের। আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জিএম কাদের এ কথা বলেন। এর আগে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করে জাপার একাংশ। ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া জানাতেই বনানীর দলীয় কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন জিএম কাদের।

এরশাদ ঘোষিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, কেউ ঘোষণা দিলেই রাজা হওয়া যায় না। এছাড়া পার্টির শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ ধরনের ঘশ দিতে পারেন না বা নাম ঘোষণা করতে পারেন না। এর জন্য দলের গঠনতন্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘোষণা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলের যে কোনো ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট যে কেউ কোনো প্রস্তাব করতে পারেন। কিন্তু তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কতকগুলো নিয়ম কানুন রয়েছে। সেগুলো মানা না হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার মায়ের মতো। আর উনিতো সংবাদ সম্মেলনে নিজে থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করেননি। অন্য একজন তার নাম করেছেন। পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে।’

এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘যে কোনো সংগঠনের শৃঙ্খলা কী, বিশৃঙ্খলা কী এটি ওই সংগঠনে জড়িত সবাই বোঝেন। সুতরাং আজকের এই ঘটনায়ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জিএম কাদের বলেন, ‘তিন বছর পর পর পার্টির কাউন্সিল হওয়ার কথা। সে সময় এসে গেছে। আমরা খুব তাড়াতাড়িই পার্টির কাউন্সিল করে ফেলব।’

‘রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ঘোষণায় দলে ভাঙন সৃষ্টি হলো কিনা?’- এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ‘কেউ নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিলেই জাপার চেয়ারম্যান হওয়া যাবে না। কেউ ঘোষণা দিলেই রাজা হওয়া যায় না। এমনকি নিজেকেই সম্রাট হিসেবে ঘোষণা দিয়ে কেউ সম্রাট হতে পারেন না।’

কাদের বলেন,‘আমি চেয়ারম্যান হয়েছি বৈধভাবে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে এক চিঠির মাধ্যমে আমাকে জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। সেই হিসেবে আমিই জাপার চেয়ারম্যান।’

স্পিকারকে দেয়া চিঠির বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, পার্লামেন্টারি বোর্ডের অধিকাংশের মতামত নিয়ে আমাকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। অন্তত ১৫ জন সংসদ সদস্য আমাকে বিরোধীদলীয় নেতা হতে অনুরোধ করেছেন। তাদের অনুরোধের ভিত্তিতে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এই চিঠি স্পিকারকে পৌঁছে দিয়েছেন।

পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেব জীবিত থাকা অবস্থায় যেভাবে বোর্ড গঠন করেছিলেন, সেভাবেই করা হয়েছে। শুধু একজন সদস্য নিজে থেকে সরে যেতে চাইলে তার স্থানে কাজী ফিরোজ রশীদকে যুক্ত করেছি। জাতীয় নির্বাচন ও একটি উপ-নির্বাচনে একই বোর্ড নাও হতে পারে। এখানে আঞ্চলিকতার প্রাধান্য থাকতেই পারে। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই আমি দায়িত্ব পালন করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি প্রমুখ।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর গুলশানে রওশন এরশাদের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

রওশন বর্তমানে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান। সংবাদ সম্মেলনে রওশন বলেন, ‘এরশাদ সাহেব তিলতিল করে পার্টিটাকে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন। এখন সেই পার্টিটাকে ভালো করতে চাই।’

পুরনো যারা জাতীয় পার্টি থেকে ছেড়ে গেছেন, তাদের নতুন করে দলে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান রওশন। তিনি বলেন, ‘মান-অভিমান ভুলে দেশ ও মানুষের স্বার্থে জাতীয় পার্টির পতাকাতলে আসুন। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতীয় পার্টিকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত