শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সরকারবিরোধী অপপ্রচার মোকাবিলা করুন: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচার মোকাবিলায় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ এটা (অপপ্রচার) তাঁদেরকেই বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মানুষ রয়েছে, যারা সব সময় অব্যাহতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা আপনাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। যার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত আপনারা হন। তারা আমাকে পলিটিক্যালি ক্ষতি করতে চায়। আপনাদেরকে এটা মোকাবিলা করতে হবে, কারণ এগুলো আপনাদেরই ক্ষতি করবে।’

তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকের নেতৃত্বে সংগঠনটির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (অপপ্রচারকারীরা) রাজনৈতিক কারণে আমার ক্ষতি করতে চায়। কিন্তু এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনারা।’

ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না।’

দেশরে উন্নয়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে পোশাক খাত ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রপ্তানির জন্য পণ্যের বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি তাঁর লন্ডন সফরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশি পণ্যের সুনির্দিষ্ট বাজার আবিষ্কারের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আমরা কৃষিকেও গুরুত্ব দিই, আবার শিল্পকেও গুরুত্ব দিই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি যদিও কৃষিপ্রধান, কিন্তু এটিও ঠিক শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হয় না। এটিও বাস্তবতা। সে জন্য একদিকে আমরা কৃষিকেও গুরুত্ব দিই, আবার শিল্পকেও গুরুত্ব দিই।

শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নাই।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারে আসার পর থেকে যত রকমের সুবিধা দেওয়ার কথা সেটা কিন্তু করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন বাজার খোঁজা ও পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গার্মেন্টস সেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আমাদের এটাও চিন্তা করতে হবে আমাদের ডাইভারসিফিকেশন প্রয়োজন। বিভিন্ন পণ্য বহুমুখীকরণ এটাও প্রয়োজন। কোন দেশে কোন পণ্যের বাজার আছে সেটা দেখা।

বাংলাদেশের শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতা ও কম খরচের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের রপ্তানি আছে সেটা থাকবে। তাদের গরজেই এটা থাকবে, একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, শুধু লেবার খরচই কম তা কিন্তু না। আমরা যে পরিমাণে সাপ্লাই দিতে পারি, ভলিউমটা যে পরিমাণে দিতে পারি অন্য কোনো দেশ দেবে না। দেশের শ্রমিকরা কিন্তু খুবই ভালো। তারা যে আট ঘণ্টা কাজ করে, অতিরিক্ত কাজ করতে বললে ওরা করে দেয়। ছুটির দিনেও কাজ করে দেয়। পৃথিবীর অন্য দেশে কেউ কিন্তু করে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা যখন কাজ করে তারা কাজকে আপন করে নেয়। এই গুণটা বাংলাদেশের মানুষের আছে।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলাপের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি আছে সেটা যেভাবে আছে সেভাবে চলতে থাকবে। ব্রেক্সিট-এ আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ ও সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ আবদুস সালাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল সামাদ প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত