শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সামনে মন্ত্রী-সাংসদেরা টার্গেট হবে না, তা বলা যায় না: কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সায়েন্স ল্যাবে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম টার্গেট ছিলেন না। এটি পুলিশের ওপর হামলা।

আজ রোববার সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি এও বলেন, এ ধরনের ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে একসময় যে মন্ত্রী-সাংসদ ও রাজনীতিবিদেরা টার্গেট হবে না তা বলা যায় না।

রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে এই হামলা কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, পুলিশের আইজি এবং ঢাকার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছে। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন, এ হামলায় মন্ত্রী টার্গেট ছিলেন না। তবে তিনি এও বলেন, ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে একসময় যে মন্ত্রী-সাংসদ ও রাজনীতিবিদেরা টার্গেট হবে না, তা বলা যায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এই হামলা পরীক্ষামূলক। এমন ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে বড় ঘটনার আলামতের আভাস দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে বড় ধরনের ঘটনার জন্য জঙ্গিদের ‘টেস্ট কেস’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ব্যাপারে জোরদার তদন্ত চলছে, আশা করি পুলিশ এই চক্রকে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে সফল হবে।’

‘তাদের হয়তো ছোট ধরনের ঘটনা নিয়ে টেস্ট কেস হতে পারে। বড় ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য। এই বিষয়ে সতর্কতা আছে’ বলেন ওবায়দুল কাদের।

দেশ থেকে এখনও জঙ্গি নির্মূল হয়নি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জঙ্গি দমনে গোয়েন্দাদের রেকর্ড ভালো। তবে উন্নত প্রযুক্তি অর্থাৎ রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে যদি হামলা করে থাকে সে বিষয়ে গোয়েন্দারা এখনও অভিজ্ঞ হতে পারেনি। জঙ্গিরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। তারা দুর্বল হয়েছে হয়তো।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হামলাকারী চক্রটি আইএসএর নাম ব্যবহার করছে কি না গোয়েন্দা সদস্যরা সে বিষয় খতিয়ে দেখছেন।’

পুলিশ বলছে আইএস নেই। কিন্তু পুলিশের ওপর হামলার পর আইএস এর দায় স্বীকার করছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মোটরযান আইনের নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এটাও তেমন একটা বিষয় কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আসামের ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসাম আমাদের একেবারে নিকটতম প্রতিবেশি, কাজেই আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে বিষয়টি একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি এই কারণে যে যাচাই-বাছাইয়ের একটা প্রক্রিয়া আছে, উচ্চ আদালতে আপিলের একটা সুযোগ আছে। বিষয়টি সম্পর্কে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।’

ভারতের মন্ত্রীরা বলছেন, বাদ পড়ারা বাংলাদেশি, তাদের বাংলাদেশে যেতেই হবে। ভারতীয় গণমাধ্যমও বলছে এরা বাংলাদেশি। এ বিষয়ে সরকার প্রস্তুত কি-না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি, পর্যবেক্ষণ করছি।’

রোহিঙ্গা ও আসাম ইস্যু মিলিয়ে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক গুটি হতে যাচ্ছে কি-না, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন বাংলাদেশ এখন অর্জন-উন্নয়নে বিশ্বে অনেকেরই ঈর্ষার টার্গেট। কাজেই বাংলাদেশকে নিয়ে সমীহ আছে, ভূ-রাজনৈতিক বিষয় তো আছেই। এটা আগেও ছিল, এখন আরও বেশি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ এখন একটি সমীহ করার মতো দেশ। বাংলাদেশের জিডিপি এখন দক্ষিণ এশিয়ায় নাম্বার ওয়ান, আইএমএফ পর্যন্ত এই কথা স্বীকার করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের যাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে, তাদের চিন্তা-ভাবনা থাকতেও পারে। ভূ-রাজনৈতিক বিষয়টিকে উপেক্ষা করারও কোনো কারণ নেই। তবে আমরা সতর্ক আছি, প্রস্তুত আছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা তৈরি আছি। আমরা তো কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি না। আমরা পিসকে ওন করার চেষ্টা করছি। যে কোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে আমরা আলাপ আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে চাচ্ছি। তবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমরা সতর্ক আছি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত