বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না: তোফায়েল আহমেদ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলির সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, পৃথিবীতে অনেক নেতা এসেছেন। আরও অনেক নেতা আসবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা পৃথিবীতে আর জন্মাবে না। যার হৃদয় ছিল, হৃদয়ে ভালোবাসা ছিল। তিনি প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে মানুষকে ভালোবাসতেন। কথায় কথায় যিনি বলতেন, ‘কৃষক শ্রমিক মেহনতি মাানুষ।’ তিনি বলতেন, ‘দুঃখী মানুষ, বাংলার দুঃখী মানুষ। তাদের মুখে আমি হাসি ফুটাতে চাই।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।

শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস) মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজও আমরা পাকিস্তানের দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ থাকতাম।’

তিনি বলেন, ‘এই মহান নেতা বিশ্বে বিরল। যিনি ডেভিড ফ্রস্টকে বলেছিলেন ‘আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন নেতার মধ্যে শুধু নেলসন ম্যান্ডেলার তুলনা চলে বলেও মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন কুমার দাসের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবেদ খান, সারাবাংলা ডটনেট, দৈনিক সারাবাংলা ও জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক কাবেরী গায়েন উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবেদ খান বলেন, ‘এদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে বিতর্কিত ও বিলুপ্ত করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র অনেক সময় করা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট শেষ হয়নি। চলতে চলতে সেটি ২১ আগস্টের ঘটনায় এসে ঠেকেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জিয়াউর রহমানের ইতিহাস দেখি সেখান থেকে এর প্রমাণ আমরা পেয়ে যাই। তাকে আমার বরাবর মনে হয়েছে, আমি যতই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, জিয়াউর রহমান আসলে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ ছিলেন। সিরিয়াল কিলার হিসেবেই তিনি তার বিভিন্ন কার্যক্রমের ভেতর সেটা প্রমাণ করেছেন।’

সেমিনারে সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বড় মনের রাজনীতি করেছেন। প্রকৃত বৃহত্তর মানুষের পরিচয় নিহিত থাকে তার মানসিকতায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে মানসিকতায় বৃহৎ ছিলেন। ক্ষুদ্রতা কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। মানুষের সংগ্রামে তিনি সবসময় সামনে থেকে কর্মী হয়েছেন। নেতা ছিলেন অনেক কম সময়। আজকে আমাদের রাজনীতিতে নেতা অনেক বেশি। কর্মী অনেক কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগস্ট এলে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আমাদের প্রতিদিনের চিন্তায় বঙ্গবন্ধুকে আমরা কখনো আলাদা করতে পারি না। বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এ তিনটি সমার্থক শব্দ। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি ভাবা যায় না।’

সেমিনারে ‘বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত