শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রোহিঙ্গাদের নিয়ে খেললে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ওবায়দুল কাদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সব বিষয়ই আমাদের নলেজে আছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য ও আশ্রয় আমরা দিয়ে যাচ্ছি। তাদেরকে নিয়ে যারা খেলতে চায়, তাদেরকে নিয়ে নোংরা খেলা যারা করতে চায়, তাদের ব্যাপারেও আমাদের কাছে তথ্য আছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লা কীভাবে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পার হয়ে ইউএসএ গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়ে, আবার একই ইমিগ্রেশন পার হয়ে দুদিন আগের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন, এই বিষয়টিকে সরকার কীভাবে দেখছে, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তার জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

রোহিঙ্গারা কীভাবে মোবাইল পেল, এমনকি তারা একই রঙের টি-শার্ট কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে সমস্যা আছে। এখানে বিদেশ থেকেও মদদ আছে বাংলাদেশেও একটা মতলবী মহল আছে। যারা আন্দোলন সংগ্রাম নির্বাচনে ব্যর্থ, তাদের এখন ষড়যন্ত ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তারা একবার কোটা আন্দোলনে একবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে।’

পৃথিবীর বিভিন্ন নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কারবালার হত্যাকাণ্ডের সময়ও কোনো নারী এবং শিশুকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। সে হত্যাকাণ্ড থেকে শিশু রাসেল এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীও বাদ যায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড যারা ঘটায় তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় না। নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারী ষড়যন্ত্রকারী মীর জাফরসহ অন্যদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা দেখলেই বোঝা যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দিকে তাকালেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা না করতেন, বিদেশে দূতাবাসে চাকরি না দিতেন, ইনডেমনিটি আইন করে হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ না করতেন, তাহলে হয়তো তাকেও এভাবে মরতে হতো না। যে বুলেট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে সেই বুলেটের আঘাতেই খালেদা জিয়াও বিধবা হয়েছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এই সব আন্দোলনকে পুঁজি করে তারা অতীতে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করেছে। এখন তারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়ে এটাকে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রমূলক ফায়দা লোটা যায় কি না, সেটাতো নিশ্চয় তাদের মাথায় আছে, তাদের সহযোগিতা থাকতে পারে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে বলেও দাবি করেন সরকারের এই মন্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারও বন্ধুহীন দেশ, এ কথা ভাবার সুযোগ নেই। তাদেরও বন্ধু আছে তাদেরও মিত্র আছে। কাজেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে যেমন অনাগ্রহ আছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে তাদের ওপর চাপও কিন্তু ক্রমাগত বাড়ছে।’

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিদেশি এনজিওগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে। আমাদের দেশীয় কিছু গোষ্ঠীও আছে, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থ। যারা কোটা আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারাই রোহিঙ্গাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। যারা নোংরা খেলায় মেতেছে তাদের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় বাংলাদেশে এখন ঘোর অমানিশা চলছে, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশে অমানিশা চলছে, দেশে-বিদেশে এ নিয়ে কারও কোনো মন্তব্য নেই। বাংলাদেশে যদি অমানিশা চলে তাহলে বিএনপিতে অমানিশা চলছে। তারা আজকে পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিকের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে। যখন যেখানে যা খুশি তাই বলছে।’

প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রংপুরের শূন্য আসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাউকে ছাড় দেয়নি। রংপুরেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি যে যার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা। প্রধান বক্তা ছিলেন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত