শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রওশন-জিএম কাদেরের ‘ঠাণ্ডা লড়াই’, জাপায় ভাঙনের সুর

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর এক মাসের মাথায় দলটির চেন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। একইসঙ্গে বেজে উঠেছে ভাঙনের সুর। দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন- তা নিয়ে এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই জি এম কাদেরের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই।

দলটির সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, এরশাদ লিখিত ওছিয়ত করে গেছেন, তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হবেন ছোট ভোট জি এম কাদের। এরশাদের দেওয়া লিখিত কাগজের জোরে জি এম কাদের বর্তমানে দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এরশাদের লেখা ওই চিঠি ঘিরে দলটির মধ্যে জালিয়াতির গুঞ্জন উঠেছে। বেগম রওশন এরশাদ ওই লিখিত আদেশ মানছেন না।

এক্ষেত্রে রওশন এরশাদের যুক্তি- দলের চেয়ারম্যান কে হবেন তা প্রেসিডিয়াম সদস্যরা সভা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কেননা দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে স্বাভাবিক মস্তিষ্কে ছিলেন না। তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। নিজে লিখতে পারতেন না, এমনকি কোনো কিছু পড়তেও পারতেন না। এ অবস্থায় জি এম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান করার চিঠিতে নিশ্চয় জালিয়াতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, জি এম কাদেরের ওপর রওশন এরশাদ খুবই ক্ষুব্ধ। এরশাদের মৃত্যুর পর জি এম কাদের গুলশানে রওশন এরশাদের বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের সামনে একাধিকবার অপমানিত হয়েছেন। রওশন এরশাদ চান না জি এম কাদের তার বাসায় আসা-যাওয়া করুক।

এদিকে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী রওশন এরশাদের পক্ষ নিয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান প্রশ্নে চিঠির বিষয়ে রওশন এরশাদের সন্দেহে একমত হয়েছেন ২২ সংসদ সদস্যের ১৭ জন। আর ৫২ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে ৩০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের সঙ্গে রয়েছেন। এরা কেউই জি এম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, জি এম কাদের ওইসব সিনিয়র নেতাদের চেয়ে রাজনীতিতে অনেক জুনিয়র।

এমন অবস্থায় নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে দল ভেঙে যাওয়ার। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন দোদুল্যমান অবস্থানে। তবে যেন দলটি দ্বিধাবিভক্ত না হয় এবং পার্টিকে সুসংহত করা যায় সে জন্য আগামী মাস থেকে আটটি বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিরা সফর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আগামী জানুয়ারিতে দলটির কেন্দ্র্রীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পক্ষের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং বিরোধী দলের নেতা হবেন বেগম রওশন এরশাদ। দলের প্রভাশালী নেতা-কর্মীরা বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে রয়েছেন। জিএম কাদের যে লিখিত বলে দলটির চেয়ারম্যান দাবি করছেন তা সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি। যখন লেখাটি নেওয়া হয়েছে তখন এরশাদ সাহেব খুবই অসুস্থ।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের ওই সদস্য বলেন, ‘জিএম কাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার ক্ষমতা রাখেন না। তিনি এখনই পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া এরশাদের মৃত্যুর পর স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল করেছেন জি এম কাদের। তাতে রওশনপন্থিরা অংশ নেননি।

দলের সামগ্রিক অবস্থা জানতে চাওয়া হলে জি এম কাদের বলেন, ‘পার্টির মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই। দলটি ভাঙনের মুখে পড়বে না। দলটির ২/৪ জন নেতা আমার বিরোধিতা করলে তাতে কিছু আসে যায় না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি জাতীয় পার্টিতে না থাকতে চায় থাকবে না। কে বিরোধী দলের নেতা হতে চান বা দলটির হাল ধরতে চান তা ঠিক হবে আগামী কাউন্সিলে। জাতীয় পার্টিও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল জানুয়ারি মাসে হবে। এর আগে সারাদেশে কমিটি গঠন করা হবে।’

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গত ২৬ জুন থেকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ জুলাই তিনি মারা যান। এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর-৩ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত