মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কাবিননামায় কুমারীর বদলে অবিবাহিত লেখার নির্দেশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিকাহ রেজিস্ট্রি ফরমে ‘কুমারী’ শব্দ মুছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তবে অবিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা শব্দগুলো থাকবে। পাঁচ বছর আগে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ রোববার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রি ফরমে একটি কলাম যুক্ত করে বরের ক্ষেত্রে অবিবাহিত/বিপত্নীক/তালাকপ্রাপ্ত শব্দগুলো যুক্ত করা যাবে।

বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাবিনের ৫ নম্বর কলামে উল্লিখিত কনের ক্ষেত্রে ‘কুমারী’ কি না—এমন বিধান বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করে ব্লাস্ট, নারী পক্ষ ও মহিলা পরিষদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরই আদালত রুল দেন। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনুন নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা মেয়ে কুমারী কী কুমারী নয়, এটা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। কাবিননামা একটি পাবলিক ডকুমেন্ট। এখানে ব্যক্তিগত এ বিষয়টি থাকতে পারে না। আবার এ বিষয়টি একটা মেয়ের বেলায় আছে কিন্তু ছেলের বেলায় সে বিবাহিত , তালাকপ্রাপ্ত কিনা সেটি উল্লেখ নেই। এখানেই বৈষম্য করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা রিট দায়ের করেছি। আদালত শুনানি শেষে আজ এ রায় দেন।’

রায়টিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে আইনজীবী জেডআই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত বলেছেন কুমারী শব্দটা থাকা ঠিক না। সেটা বাদ দেওয়া এবং কাবিনের ৪ নম্বর কলামে বরের ক্ষেত্রে সে বিবাহিত কি না তালাকপ্রাপ্ত কিনা এবং বিপত্নীক কিনা সেটা লিখতে হবে। এ রায়ের ফলে কাবিননামায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত