শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

জিএম কাদেরের নেতৃত্বেই আগামীতে এইচএম এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে: সাক্ষাৎকারে কাজী মামুনুর রশীদ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মোঃ শফিকুল ইসলাম: জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ বলেছেন, পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, এইচ এম এরশাদের জানাজা এবং দাফনকে ঘিরে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। মৃত এরশাদ জীবিত এরশাদের চেয়ে পার্টিতে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এইচ এম এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরি জি এম কাদেরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। গতকাল প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলোচনা একথা বলেন তিনি।

জাপার চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে জি এম কাদের এবং বেগম রওশন এরশাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে কিনা জানতে চাইলে কাজী মামুন বলেন, এটি একটি মিমাংসিত বিষয়। পল্লীবন্ধু এরশাদ জি এম কাদেরকে তার অবর্তমানে চেয়ারম্যান ঘোষনা করেছেন। যারা জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানবেন না তারা এইচ এম এরশাদের সিদ্ধান্তকে অমান্য করবেন। জি এম কাদের, গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ৯৯ শতাংশ নেতাকর্মীতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। জনাব কাদের এও বলেছেন, রওশন এরশাদকে তিনি মায়ের মতো সম্মান করেন। রওশন এরশাদসহ সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিনি দল পরিচালনা করবেন। এছাড়া রওশন এরশাদও গণমাধ্যমে বলেছেন এক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা হবে। কাজী মামুন বলেন, এর বাইরে কেউ দল ভাঙ্গার চেষ্টা করলে তারা মীরজাফর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

এইচ এম এরশাদের শূন্য আসনে ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী মামুন বলেন, রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘৯০ সাল থেকে ভোট করে আসছেন। এই আসনে তিনি সব সময় জয়ী হয়ে আসছেন। আসনটি ইতিমধ্যে শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে। এই আসনে পল্লীবন্ধুর ইমেজকে ঘিরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে আশা করি। এলাকার নেতাকর্মীদের মতকে শতভাগ প্রাধান্য দিয়েই এই আসনে প্রার্থী দিতে হবে।

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী মামুন বলেন, এইচ এম এরশাদের আদর্শকে সামনে রেখে, তার ৯ বছরের সফলতা ও সততা নিয়ে জি এম কাদের দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জি এম কাদের সাফল্যের সঙ্গে দল পরিচালনা করে চলেছেন। জিএম কাদেরই একমাত্র পল্লীবন্ধু এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরি। ভালো ইমেজ নিয়ে জি এম কাদের সারাদেশে দলকে শক্তিশালী করার কাজ করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কাজী মামুন বলেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা জি এম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করছেন। যারা দলের বাইরে আছেন তাদেরও শিগগিরই ফিরে আসতে অনুরোধ করছি। এরশাদের নয় বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতা এবং জি এম কাদেরের ক্লিনইমেজ, এবং বর্তমান সরকারের নানার ব্যর্থতার কারনে জাতীয় পার্টির আগামীতে সরকার গঠনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

এরশাদ শাসনামল সম্পর্কে কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ক্ষুদ্র পরিসরে এরশাদ শাসনামলের নয় বছরের উন্নয়ন তুলে ধরা সম্ভব হবে না। তার শাসনামলকে বলা হয় দেশের স্বপ্নযুগ। উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, জেলা-উপজেলা ভিত্তিক তিন স্তর বিশিষ্ট বিকেন্দ্রীকরণ মূলক প্রশাসন চালু, ৪৬০ থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা, হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রসারণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন চালুর পাশাপাশি গঠন করেন জাতীয় প্রেস কমিশন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্প্রসারণ, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাঁর আমলেই।

কাজী মামুন বলেন, এরশাদ শাসনামলেই দেশের রাস্তাঘাট, নৌ-যোগাযোগ, বিমান ও টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকার ওয়ারী খাল সম্প্রসারণ, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ শহর রক্ষায় ডিএনডি বাঁধ নির্মাণসহ সারাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, নতুন সড়ক মহাসড়ক তৈরি এবং সংস্কারেও উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন। জাতীয় ৩ নেতার মাজার নির্মাণসহ অনেক কর্মকান্ড রয়েছে। এছাড়া এরশাদ শাসনামলে আমেরিকা, ইউরোপ এবং চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি ওআইসিভুক্তি দেশগুলোতে সফর করে জনশক্তি রফতানি ত্বরান্বিত করেন।

এইচ এমএরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্ত—বায়ন প্রসঙ্গে কাজী মামুন বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ চেয়েছিলেন বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা। যেজন্য তিনি প্রাদেশিক সরকার গঠন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, কৃষকের কল্যাণ সাধন, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর ব্যবস্থা, ফসলি জমি নষ্ট না হয় সে ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত, গুচ্ছগ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, পল্লী রেশনিং চালু, শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন করতে চেয়েছিলেন। আমরা আগামীতে জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে পল্লীবন্ধ ুএরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত