শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আয়শাকে নিয়ে এসপির ব্রিফিংসহ তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে পুলিশ লাইনে নেওয়া, জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ও পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং—এ–সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এসব তথ্য যুক্ত করে কাল মঙ্গলবারের মধ্যে আয়শার আইনজীবীকে সম্পূরক আবেদন দিতে বলেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত কাল বেলা দুইটা পর্যন্ত আয়শার জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার আয়শার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে পরবর্তী সময় ধার্য করেন। কাল বেলা দুইটায় পরবর্তী শুনানির জন্য সময় রেখেছেন আদালত।

মিন্নিকে কবে পুলিশ লাইনসে নেয়া হয়, কবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়, কবে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি নেয়া হয়, কবে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে মিন্নি জড়িত বলে বক্তব্য দেন- মিন্নির আইনজীবীকে তা আদালতে আগামীকাল উপস্থাপনের নির্দেশ দেন আদালত এবং জামিন শুনানি কাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

আদালতে আয়শার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন এম মঈনুল ইসলাম ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন।

এর আগে ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না আবেদনটি ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ওই আবেদনটিই রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে।

মিন্নির এক আইনজীবী জানান, জামিন আবেদন করা হয়েছে। সোমবার এটি কার্যতালিকায় উঠবে।

আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নিসহ আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না আনতে পারলে জামিন হবে না, হাইকোর্টের এমন শর্তের পর ৮ আগস্ট আবেদনটি ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, ‘আমরা ১৬৪ ধারা পাইনি। আর এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, ১৬৪ নিয়ে আমাকে জামিন আবেদন করতে হবে। চার্জশিট না হলে আমাকে ১৬৪ দেবে কেন পুলিশ। চার্জশিট হওয়ার আগে ১৬৪ দেয়ার বিধান নেই।’

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাঁকে রামদা দিয়ে কোপাচ্ছেন। ঘটনার পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

গত ২ জুলাই নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। রিফাত ফরাজী গ্রেপ্তারের পর এখন কারাগারে। এই মামলায় গত ১৬ জুলাই আয়শাকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর জামিন চেয়ে প্রথমে বরগুনার বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করা হয়, যা গত ২১ জুলাই নাকচ হয়। এরপর বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চাওয়া হলে গত ৩০ জুলাই তা-ও নামঞ্জুর হয়। আয়শার জামিন পেতে তাঁর আইনজীবীরা পরে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত