শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কাশ্মীর ইস্যু: হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির পথে মোদি?

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ বা বিশেষ অধিকার রদের ঘটনাকে ভারতের ইতিহাস ও ধর্ম নিরেপক্ষতার ওপর আঘাত বলে মনে করছেন নরেন্দ্র মোদির সমালোচকরা।

তবে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য একে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাধারণ একটি ‘প্রশাসনিক একত্রীকরণ’ হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে আগেও অনেক সরকার চেষ্টা করে সফল হতে পারেনি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ভারতের হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি সরকার অগণতান্ত্রিক উপায়ে কাশ্মীরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ রদ করে কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসে। তার এই কর্মকাণ্ডকে কর্তৃত্ববাদী ও হিন্দু জাতীয়তাবাদের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের যে প্রেয়োজন আছে এ ব্যাপারে কারও সন্দেহ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।বিবাদমান ওই অঞ্চলটিতে মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। পর্বতে ঘেরা এই অঞ্চলের দখল নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একাধিকরার যুদ্ধও সংঘটিত হয়ে গেছে।

কাশ্মীদের দখলের দাবিতে উভয় পক্ষই পারমাণবিক অস্ত্রেরও প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দশকের পর দশক ধরে তাদের বৈরি সম্পর্ক ওই অঞ্চলকে আরও বেশি উত্তাল করে তোলে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কাশ্মীর ইস্যুতে জন্ম নেয় শত শত ‘জঙ্গি’ তাদের দমনে নামে হাজারও ভারতীয় সেনা।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ভারতে এমন এক ভাবাদর্শের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন যেখানে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাকিদের থেকে উঁচুতে রাখা হয়েছে এবং অন্য ধর্মের মানুষদের সেখান নির্যাতন করা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতজুড়ে উদযাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের কট্টর হিন্দুরা এই ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণ করেছে।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন জনজাগৃতি সমিতির মুখপাত্র রমেশ সিন্ধি বলেছেন, হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত