বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ইসিতে প্রশিক্ষণের নামে দুর্নীতির অভিযোগ, টিআইবির উদ্বেগ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের নামে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ ও পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে অভিযুক্তদের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব দাবি জানায় সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও অন্য পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘বিশেষ বক্তা’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ ও ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে বিপুল অংকের অর্থ ‘সম্মানি’ ও ‘ভাতা’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এরূপ সংবাদে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অনভিপ্রেত।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পুরো একটি কমিশনের পদস্থ প্রায় সব কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নজিরবিহীন।

‘এ ছাড়া এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করেই সম্পৃক্ততার নামে জনগণের করের অর্থ আদায় একদিকে রীতিমতো আইনের গুরুতর লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুস্পষ্ট দুর্নীতি, অপরদিকে যোগসাজসের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা অর্জনের বিস্ময়কর নজির যা এ পর্যায়ের সাংবিধানিক পদাধিকারী ও অন্য পদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অনৈতিক ঘটনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘বালিশ দুর্নীতি’-কেও ম্লান করে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরো কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে গুরুতর অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হিসেবে দায় গ্রহণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারগণের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

‘পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সব অভিযোগের যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যেখানে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, এমন সময়ে কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরো কমিশনের জন্য আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত করল।

‘এ পর্যায়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই সিইসি এবং কমিশনারদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িত প্রত্যেককেই জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক মর্যাদা ও সুনাম পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত