রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কতটা অমানবিক হলে এ ধরনের কথা বলতে পারেন : ফখরুল

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেটি বলতে না পারা এবং এডিস মশাকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তুলনা করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এই যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেব, কতজন ডেঙ্গু রোগে মারা গেছে, উনি বলতে পারবেন না এবং এটা তার জানা নেই।… বিদেশে যাওয়ার আগে উনি বললেন, এডিস মশা নাকি অনেকটা রহিঙ্গাদের মতো।’

‘কত বড় অমানবিক উনি! কত বড় অমানুষ উনি? এই ধরনের কথা একজন মন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে হয় আমাদের’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) যখন মালয়েশিয়া গেলেন, কেন গেলেন?— এটা পত্র-পত্রিকায় এসেছে, উনি ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছেন। ফিরে আসার পরে বলছেন, তিনি জানেন না, ডেঙ্গু রোগে কতজন মারা গেছেন। বলছেন, ১৫ শ’ থেকে ১৭ শ’ আক্রান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খবর আরও আছে। মশার যে ওষুধ! একটা হচ্ছে মশার ওষুধ নেই। আরেকটা হচ্ছে, মশার ওষুধ কাজ করছে না। করবে কী করে? যে দুর্নীতি তারা করে, তাতে তো মশার ওষুধ কাজ করার কথা না। এখন নতুন ওষুধ আনবে, সেখানে আরও দুর্নীতি হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যে দুটো ওষুধ আনা হচ্ছে, সেগুলো একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে থাইল্যান্ডে। আর যে দুটো ওষুধ আনা হবে, সেগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। তারা আমদানি করছে কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে, তাদের কনসালটেন্ট হিসেবে।’

বর্তমান অবস্থা ‘হীরক রাজার দেশ’র চেয়েও অধম হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার, এই মন্ত্রিসভা ‘হীরক রাজার দেশ’-এর চেয়ে অধম হয়ে গেছে। এ যেন হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী। এই অবস্থা হয়ে গেছে দেশের। এখান থেকে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে।’

এ ক্ষেত্রে ড্যাব অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ড্যাব মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তারা মানুষের কাছে যাচ্ছে। এটাকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। সে কারণেই লিফলেট নিয়ে নামতে দেয় না, রাস্তায় র‌্যালি করতে দেয় না। মানুষের সঙ্গে কথা বলতে, কাজ করতে দেয় না। তারপরও আমাদেরকে মানুষের কাছেই যেতে হবে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার একটা কথা বলতে চাই, সময় শেষ হওয়ার আগেই এই পার্লামেন্ট বাতিল করুন, এই নির্বাচন বাতিল করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ দেশের জনগণ জানে, কীভাবে এই ধরনের সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’

ড্যাবের আহ্বায়ক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরীসহ অনেকে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত