বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দে‌শের সংক‌টে আমি সর্বোচ্চ খেয়াল রা‌খি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

লন্ডন থেকে নিয়মিত দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। তিনি বলে‌ছেন, ‘আমি লন্ডন বা যেখা‌নেই থা‌কি না কেন, প্র‌তিমুহূ‌র্তে দে‌শের সঙ্গে যোগাযোগ রা‌খি, রাখ‌ছি‌। দে‌শের সংক‌টে আমি সর্বোচ্চ খেয়াল রা‌খি।’

শ‌নিবার (৩ আগস্ট) লন্ডন সময় বি‌কাল সা‌ড়ে চারটার দি‌কে লন্ড‌নের সেন্ট্রাল হ‌লে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আ‌য়ো‌জিত স্মরণসভায় প্রধান অতিা‌থির বক্ত‌ব্যে এসব কথা ব‌লেন তি‌নি। জা‌তির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমা‌নের ৪৪তম শাহাদাৎ বা‌র্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপল‌ক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জা‌তির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়‌নে সুদূরপ্রসারী প‌রিকল্পনা নি‌য়ে‌ছি। দুই হাজার একশ সাল পর্যন্ত আমরা প‌রিকল্পনা ক‌রেছি। জলবায়ু প‌রিবর্ত‌নের চ্যা‌লেঞ্জ মোকা‌বিলা ক‌রে কীভা‌বে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যা‌বে, সেই প‌রিকল্পনা নি‌য়ে‌ছি। প্রজ‌ন্মের পর প্রজন্ম যেন এক‌টি সুখি সুন্দর বাংলা‌দেশ পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডি‌জিটাল বাংলা‌দেশ গ‌ড়েছি‌। ডি‌জিটাল বাংলা‌দে‌শের সু‌বিধা মানুষ পা‌চ্ছে। কিন্তু অপপ্রচার চালি‌য়ে যারা মানু‌ষের ক্ষ‌তি ক‌রে তা‌দের সম্প‌র্কে সবার স‌চেতন থাকা উচিত।’

ব্রিটেনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি’কে ধন্যবাদ জানিয়ে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক দেরিতে হলেও বিএনপি বুঝতে পেরেছে। তাই তাদের ৫ জন সংসদ সদস্য সংসদে যোগ দিয়েছেন। ৩০০ আসনে ৬০০’র ওপরে প্রার্থীকে তারা মনোনয়ন দিয়েছিল। তাই নির্বাচনে এমন ভরাডুবি হয়েছে তাদের। একটি দল হিসাবে যা যা প্রাপ্য, সংসদে বিএনপিকে দিয়েছি আমরা। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোতে তাদের সদস্যদের স্থান দিয়েছি।

১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ৩৯ বছর আগে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়েই আমি দেশে ফিরেছিলাম। জাতির জনকের হত্যার বিচারের দাবিতে ৩৯ বছর আগে ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনের ইয়র্ক হলে আমি প্রথম বক্তব্য রেখেছিলাম। যদিও ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। জাতির জনকের হত্যার প্রতিবাদে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত রাজ্জাক সাহেব পদত্যাগ করেছিলেন। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেম। সেই সম্মেলনে ‘৭৭ সালে লন্ডন থেকে শেখ রেহানা যোগ দিয়েছিলেন।

১৯৮০ সালে লন্ডনে আসি আমি। ইয়র্ক হলে ‘৮০ সালের ১৬ আগস্ট প্রথম দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আমি ভাবিনি সেদিন এই দায়িত্ব নিতে হবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি প্রবাসী নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিন। প্রবাসীরা সেদিন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই প্রেরণা পেয়েছিলেন। সাহস পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে লন্ডনে বসে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ পাই। যে মাটিতে শুধু কবর আর কবর, আমি মৃত্যুকে হাতে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল এইসব হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে বাংলাদেশ অভিশাপ মুক্ত হবে না। স্বজন হারানোর কষ্ট নিয়ে ফিরেছিলাম, কিন্তু লাখো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।

আমার পাওয়ার কিছু নেই। হারাবারও কিছু নেই। শুধু বাবার আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করে যাব। ‘৯৬ সালে যখন ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করি সমালোচনা করেছিলেন, বলেছিলেন আমি প্রতিশোধ নিচ্ছি। বিএনপি সেদিন খুনীদের রক্ষা করতে হরতাল ডেকেছিল। বিচারপতির পরিবারের ওপর হামলা হয়েছিল। একজন সাধারণ মানুষের হত্যার বিচার যেভাবে হয়, জাতির জনক হত্যার বিচারও সেভাবেই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের হত্যাকারীরা কল্পনাও করেনি আওয়ামী লীগ কোনদিন ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু দেশের মানুষের ভালবাসায় আওয়ামী লীগ আজ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশে ১০০টি ইকোনমি জোনে বিনোয়োগ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রস্তুতে অবদান রাখতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান তিনি। বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশের সব ব্যবস্যায়ীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছিল। কারণ দেশে এখন হাওয়া ভবন নাই। তারা সৎভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রসাশন নয় আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুজব সম্পর্কে বলেন, যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে দেশের জন্য কাজ করে যাবো।

আমার চোখের অপারেশন ঢাকায় কেউ করতে চায়নি। তাই লন্ডনে আসতে হয়েছে। আগের বার চিকিৎসা করে খুব তাড়াহুড়ো করে ফিরে গিয়েছিলাম। তাই বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ৫ তারিখে আবার ডাক্তার প্রধানমন্ত্রীর চোখ পুনঃপরীক্ষা করবে বলে জানান। ৭ আগস্ট দেশে ফিরবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান (অব. কর্নেল) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে যোগ দিয়েছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত