মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘৭৫-এর প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে ভূমিকা পালনকারীসহ তখনকার মন্ত্রী-এমপিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে: হাসিবুল ইসলাম জয়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

মোঃ শফিকুল ইসলাম: জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেছেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল বলেই বাংলাদেশ নামক দেশটির মানচিত্রের সৃস্টি হয়েছিল। ঠিক তেমনিভাবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্ম নিয়েছিলেন বলেই বাংলার ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলায় উন্নয়নের রুপ নিয়েছে। আজকে যারা প্রয়াত পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলেন। সফল সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে রস-কষ দিয়ে কথা বলেন তারা সমাজের কথিত বিজ্ঞ ব্যক্তি। এসব কথিত ব্যক্তিতের সমাজের অবহেলিত কোনো মানুষের দায়িত্ব নিতে চান না। তাদের কোনোদিন সমাজের কোনো দায়িত্ব নিতে দেখিনি।

এসব কথিক জ্ঞানীরা রস-কষ মেখে পল্লীবন্ধু এরশাদকে স্বৈরাচার বলে গালি দেন। আর প্রকৃত খুনি স্বৈরাচারের পক্ষপাতিত্ব করে থাকেন। কথিত জ্ঞানীদের মনে রাখতে হবে, এইচ এম এরশাদ বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার। এবং আধুনিক গণতন্ত্রের প্রবক্তা। পল্লীবন্ধু এরশাদ দেশে দরিদ্র নিগৃহিত মানুষের পাশে দাড়িয়েছিলেন। পথকলি ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ট সন্তান বলে ঘোষনা দিয়েছেন। ধর্ম উপাসনালয় থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এইচ এম এরশাদ।

ক্ষমতার বাইরে থেকেও পল্লীবন্ধু এরশাদ অনেক মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এসব বিষয় কখনো তিনি প্রকাশ করতেন না। পল্লীবন্ধু এরশাদ তার সকল সম্পদ ট্রাস্টে দিয়ে গেছেন। এরিক এরশাদের ভরণ পোষনের পর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে সমাজকল্যাণে ব্যয় হবে। এইচ এম এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় রানা প্লাজায় আহত ৮ জন, তাজরীন গার্মেন্টসে নিহতের ৩ পরিবারসহ মোট ৪৩ জনকে প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। ব্যাংক টু ব্যাংকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন। তা অব্যাহত থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগর শিকার হলে তাদের পাশে দাঁড়াবে ট্রাস্ট।

কথিত ওইসব ব্যক্তিরা কখনো একজনের দায়িত্ব নিয়েছেন কিনা আমার জানা নেই। টেলিভিশনে রস-কষ দিয়ে এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে কথা বলা ব্যক্তিরা যা বলেন সমাজে বাস্তব চিত্র তার উল্টে। সমাজে এরা সামাজিকভাকে নিগৃহিত। বাস্তব জীবনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। কথিত এসব ব্যক্তিরা দেশপ্রেমিক পল্লীবন্ধুকে স্বৈরাচার বলে প্রকৃত অর্থে খুনি স্বৈরাচারকে আড়াল করছেন। তারা খুনি স্বৈরাচারচকে গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলছেন। ওই খুনি স্বৈরাচার বাংলাদেশের একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। শতশত মানুষকে রাতের আধারে হত্যা করেছেন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ ওই সময়ের সকল হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীদের জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ঘোষনা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। ওই খুনীকে মরনোত্তর বিচার করতে হবে। বারংবার ফঁাসি দেওয়া উচিত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাদার অব হিউমিনিটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে দৃস্টি রাখতে হবে স্বাধীনতা পরবর্তী ‘৭৫-এর প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে যারা মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অনেকেই এখন জীবিত আছেন। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর সেই প্রবক্তা খুনি স্বৈরাচারের বিচার হোক মরনোত্তর। তার সংসদে যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন তাদেরও বিচারের আওতায় আনা গণমানুষের দাবি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত