রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জিএম কাদেরের নেতৃত্বেই আগামীতে এইচ এম এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে : হাসিবুল ইসলাম জয়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

জুনায়েদ আলম

জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম)কাদেরের নেতৃত্বে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, এইচ এম এরশাদের জানাজা এবং দাফনকে ঘিরে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা আরো বেশি বেড়েছে। মৃত এরশাদ জীবিত এরশাদের চেয়ে পার্টিতে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এইচ এম এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। যদি কেউ পার্টিকে ভাঙ্গনের চেষ্টা করেন তারা আস্তা কুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। গতকাল রাজধানীর বনানীর নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বর্তমান সময়-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।

জাপার চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে জিএম কাদের এবং পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে কিনা জানতে চাইলে হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, এটি একটি মিমাংসিত বিষয়। পল্লীবন্ধু এরশাদ জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে চেয়ারম্যান ঘোষনা করেছেন। যারা জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানবেন না তারা এইচ এম এরশাদের সিদ্ধান্তকে অমান্য করবেন। জিএম কাদের, গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ৯৯ শতাংশ নেতাকর্মীতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। জনাব কাদের এও বলেছেন, রওশন এরশাদকে তিনি মায়ের মতো সম্মান করেন। রওশন এরশাদসহ সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিনি দল পরিচালনা করবেন। এছাড়া রওশন এরশাদও গণমাধ্যমে বলেছেন,এক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনাহবে। জয় বলেন, এরবাইরে কেউ দল ভাঙ্গার চেষ্টা করলে তারা মীরজাফর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন। এর এটা সম্ভবও হবে না।

এইচ এম এরশাদের শূন্য আসনে ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘৯০ সাল থেকে ভোট করে আসছেন। এই আসনে তিনি সব সময় জয়ী হয়ে আসছেন। আসনটি ইতিমধ্যে শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে। জয় বলেন, এই আসনে পল্লীবন্ধুর ইমেজকে ঘিরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে আশা করি। এলাকার নেতাকর্মীদের মতকে শতভাগ প্রাধান্য দিয়েই এই আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। এই আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্র থেকে ভুল প্রার্থীর নাম ঘোষনা হলে মাশুল দিতে হবে গোটা পার্টিকে। জয় বলেন, রংপুর বাসী ঢাকার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পল্লীবন্ধুর কবর রংপুরেই করেছে। ভুল প্রার্থী ঘোষনা করলে এক্ষেত্রে তৃনমূলের সাথে বিরোধ ঘটতে পারে। বিষয়টি নিশ্চয় কেন্দ্রীয় নেতাদের আমলে রয়েছে।

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসিবুল ইসলাম বলেন, এইচ এম এরশাদের আদর্শকে সামনে রেখেতার ৯ বছরের সফলতা ও সততা নিয়ে জিএম কাদের দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জিএম কাদের সাফল্যের সঙ্গে দলের চারদিন ব্যাপী বিভাগীয় বর্ধিতসভা করছেন। যা পার্টির ইতিহাসে প্রথম। তিনিই একমাত্র পল্লীবন্ধু এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরি। জয় বলেন, ভালো ইমেজ নিয়ে জিএম কাদের সারাদেশে দলকে শক্তিশালী করার কাজ করছেন। বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলায় জেলায় ঘুরছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, বিএনপি থেকে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা জিএম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করছেন। যারা দলের বাইরে আছেন তাদেরও শিগগিরই দলে ফিরে আসতে পরামর্শ দেবো। এরশাদের নয় বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতা এবং জিএম কাদেরের ক্লিন ইমেজ, এবং বর্তমান সরকারের নানার ব্যর্থতার কারনে জাতীয় পার্টির আগামীতে সরকার গঠনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

এরশাদ শাসনামল সম্পর্কে হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, ক্ষুদ্র পরিসরে এরশাদ শাসনামলের নয় বছরের উন্নয়ন তুলেধরা সম্ভব হবেনা। তার শাসনামলকে বলাহয় দেশের‘স্বপ্নযুগ’। উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, জেলা-উপজেলাভিত্তিক তিন স্তরবিশিষ্ট বিকেন্দ্রীকরণ মূলক প্রশাসন চালু, ৪৬০ থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা, হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রসারণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন চালুর পাশাপাশি গঠন করেন জাতীয় প্রেস কমিশন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্প্রসারণ, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এরশাদ শাসনামলেই। জয় বলেন, এরশাদ শাসনা মলেই দেশের রাস্তাঘাট, নৌ-যোগাযোগ, বিমান ও টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকার ওয়ারী খাল সম্প্রসারণ, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ শহর রক্ষায় ডিএনডি বাঁধনির্মাণসহ সারাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, নতুন সড়ক মহাসড়ক তৈরি এবং সংস্কারেও উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন। জাতীয় ৩ নেতার মাজার নির্মাণ সহ অনেক কর্মকান্ড রয়েছে। এছাড়াও এরশাদ শাসনামলে আমেরিকা, ইউরোপ এবং চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেরওপর জোর দিয়ে তিনি ওআইসিভুক্তি দেশগুলোতে সফর করে জনশক্তি রফতানি ত্বরান্বিত করেন।

এইচ এম এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্নবাস্তবায়ন প্রসঙ্গে হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ চেয়েছিলেন বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসনপ্রতিষ্ঠা। যেজন্য তিনি প্রাদেশিক সরকার গঠন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, কৃষকের কল্যাণ সাধন, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর ব্যবস্থা, ফসলিজমিনষ্ট না হয় সে ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত, গুচ্ছ গ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পল্লী রেশনিং চালু, শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন করতে চেয়েছিলেন। আমরা আগামীতে জিএম কাদেরের নেতৃত্বে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে পল্লীবন্ধু এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্নবাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত