রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ডেঙ্গু পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে ইবনে সিনার বিরুদ্ধে মামলা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ডেঙ্গু শনাক্তকরণ রক্ত পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারের কনসালট্যান্ট প্রফেসর (অব.) কর্নেল মো. মনিরুজ্জামানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী আইনজীবী মো. রমজান আলী সরকার ওরফে রানা সরদার।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইবনে সিনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. দিদার হোসাইন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ধানমণ্ডি সাতমসজিদ রোডের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে রক্তের ডেঙ্গু এনএসআই এজি ও সিবিসি পরীক্ষা করতে দেন বাদী। পর দিন ২৬ জুলাই রিপোর্ট সংগ্রহ করে দেখতে পান রক্তের প্লাটিলেট লেভেল ৭ লাখ ৮৪ হাজার সিএমএম। প্লাটিলেট লেভেল স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি হওয়ায় বাদী ভেঙে পড়েন।

পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই দিনই ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করান। সেখানকার রিপোর্টে রক্তের প্লাটিলেট লেভেল ২ লাখ আসে, যা ছিল স্বাভাবিক লেভেল।মামলায় আরও বলা হয়, ইবনে সিনার প্রতারণামূলক ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে বাদী ওষুধ সেবন করলে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন এবং জীবননাশেরও সম্ভাবনা ছিল।

আইনজীবী আরও বলেন, একজন সুস্থ মানুষের রক্তের প্লাটিলেট লেভেল দেড় থেকে সাড়ে চার লাখ। কিন্তু তাদের রিপোর্টে রক্তের প্লাটিলেট লেভেল সাত লাখ ৮৪ হাজার দেখায়। যা কোনো সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে না। ওই হাসপাতাল আমার সরলতা এবং অসুস্থতাকে পুঁজি করে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আইনজীবী রমজান আলী সরদার বলেন, ইবনে সিনা ডায়াগনোস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ভুল রিপোর্ট প্রদান করে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৬৯/২৭০/৪০৬ ধারায় অপরাধ করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করছি।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত