বুধবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

মশা নিধনে নতুন ওষুধ আমদানির প্রস্তাব গণমাধ্যম সম্পাদকদের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সিটি করপোরেশনের প্রতি দ্রুত মশা নিধনে নতুন ওষুধ আমদানির প্রস্তাব দিয়েছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম সম্পাদকেরা। এক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা থাকলে প্রয়োজনে সেটি ভেঙে নতুন ওষুধ আমদানির দাবি জানান তারা।

সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্ন নগরী বিনির্মাণ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে গণমাধ্যম সম্পাদকরা এ দাবি জানান।

সভার শুরুতে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে অকার্যকর মশা নিধন ওষুধ পরিবর্তন করে নতুন ওষুধ আমদানি করতে নীতিমালা অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। ’

মেয়রের এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকরা বলেন, জরুরি অবস্থায় নীতিমালার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। প্রয়োজনে নীতিমালা ভেঙে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে মশা নিধনের নতুন ওষুধ আমদানি করতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গুর প্রভাব সামনে আরও বাড়বে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদী এবং সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার প্রস্তাব দেন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। সেইসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং নগরবাসীর অবস্থার প্রতি মেয়রদের সংবেদনশীল থাকার আহ্বান ও জানান তারা।

প্রবীণ সাংবাদিক রাহাত খান বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সকল নাগরিকের দায়িত্ব আছে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। ,

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে রক্ষণাত্মক না হয়ে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থান নিতে হবে। আপনাদের কোথাও ক্রটি থাকলে, দুর্বলতা থাকলে- স্বীকার করে নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ বিষয়ে গবেষণা সেল থাকা জরুরি। ’

সভায় জিটিভি ও দৈনিক সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘গত দুই মাস বা তারও আগে থেকে গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে সতর্ক করার চেষ্টা করেছে যে, ডেঙ্গু আসছে। এখন আপনারা যতটুকু সিরিয়াসনেস দেখাচ্ছেন, তা কিন্তু শুরু থেকে ছিল না। এই যে শুরু থেকে বিষয়টি আমলে না নেওয়ার প্রবণতা, অস্বীকার করার প্রবণতা- এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। ’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘মন্তব্য ও মতামত প্রকাশের সময় ঔদ্ধত্য না দেখিয়ে রোগীদের প্রতি, নগরবাসীর প্রতি সহানুভূতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়া উচিত। লোক দেখানো কাজের দরকার নাই। ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ মেয়রকে দিতে হবে না। তারা প্রয়োজনে অফিস থেকে সবকিছু তদারকি করবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব না। সরকারের অন্যান্য সংস্থারও দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু সে দায়িত্ব যদি সিটি করপোরেশন একার কাঁধে নিয়ে অস্বীকার করার চেষ্টা করে, মশা নিয়ে মশকরা করে, ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যদি মানুষকে নিয়ে মশকরামূলক বক্তব্য দেয়, সেগুলো আমাদেরকে খুব আহত করে। ’

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তিনটি ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। যারা প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী ধাপে যাদের চিকিৎসা চলছে এবং তৃতীয় ধাপে যারা গুরুতর আক্রান্ত- এভাবে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।’

অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পূর্ব সাবধানতা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন বাংলানিউজ টুয়েন্টফোর-এর সম্পাদক জুয়েল মাজহার। তিনি বলেন, ‘স্কুলে ক্লাস করতে আসা কোমলমতি শিশুরা ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা যেতে পারে। এসব স্কুল এবং সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে। একইসঙ্গে হতদরিদ্র মানুষদের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় যেন ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

সভার আয়োজক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সত্য যে আমরা জনগণকে খুশি করতে পারি নাই। তবুও সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করব। সিটি করপোরেশনের কাজে গতি আনতে হবে। সমন্বয় অবশ্যই করতে হবে। ৩৬৫ দিনে কাজের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা ও তথ্য সেল তৈরি করতে হবে। আমাদের কথা বলার সময় বিনয়ী হতে হবে। ’

এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আতিক। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেহিকেল মাউন্টেন মেশিন আনার পরিকল্পনা করছি। ডেঙ্গু রোগীদের সাথে হাসপাতালগুলো যেন ব্যবসা না করেন তার আহবান জানাচ্ছি। মানবিক কারণে আপনারা সবাই এগিয়ে আসেন। আমি সিটি করপোরেশন থেকে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন হাসপাতালের রোগীদের সাথে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছি। বাসাবাড়ি এবং উচ্চ ভবনগুলোতে যেন পানি না জমে তা দেখার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন দেখলাম মশার ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তখন সেগুলো পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু তিনবার পরীক্ষা করেও ওষুধটি মানোত্তীর্ণ হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে সে প্রতিষ্ঠানকে ব্লাক লিস্টেড করেছি। এরপর অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ নেওয়া শুরু করি। কিন্তু সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে এই দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যারা মশার ওষুধ আমদানি করে। পরে দেখলাম এটা সিন্ডিকেটের মত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডিএনসিসিই ওষুধ আমদানি করবে। কিন্তু এটি করতেও কিছুদিন সময় লাগবে। নীতিমালা অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদসহ সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলরা। সভা শেষে মেয়র আতিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেখতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত