শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জামিন নাকচ, বাছির কারাগারে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

পুলিশের বিতর্কিত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান মিজানের কাছ থেকে ঘুষ নেলদেনের অভিযোগের মামলায় ‍দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ (মঙ্গলবার) তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আবেদন করে আদালতে বলেন, এনামুল বাছির দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত বিনষ্ট করার হীন চেষ্টাসহ সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। তাকে জামিন দেওয়া হলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত বিনষ্ট করতে পারেন এবং তদন্তকাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।

আবেদনে তিনি আরও বলেন, অবৈধ পন্থায় অর্জিত ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে ওই টাকার অবস্থান গোপন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় আসামি বাছিরের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠনোর আবেদন জানাচ্ছি।

এর আগে দুপুর ২ টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয় সাবেক এই দুদক কর্মকর্তাকে। শুনানিতে। আদালতে বাছিরের পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এর বিরোধীতা করেন।

পরে খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিনোর আদেশ দেন আদালত।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম এলাকার একটি বাসা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় দুদকের পরিচালক মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করে।

গত ১৬ জুলাই দুদকের সাবেক এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা।

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা এ মামলার এজাহারে বলা হয়, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায় থেকে বাঁচার জন্য ডিআইজি মিজানুর অসৎ উদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রভাবিত করেন। রাজধানীর রমনা পার্কে এই অর্থ লেনদেন করা হয়।

এদিকে এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানকে। এর চার মাস পর তার সম্পদ অনুসন্ধানে নামে দুদক। সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক এনামুল বাছির।

মিজানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, এনামুল বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর সপক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত