রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

এরশাদকে রংপুরে রেখে দিলেন নেতাকর্মীরা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মরদেহ রংপুরে আটকে রাখলেন নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পথে মরদেহ বহনকারী গাড়ি আটকে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবি জানান।

বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে এরশাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরশাদের জানাজা মাঠ জনস্রোতে পরিণত হয়। কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে ঢল নামে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার। লক্ষাধিক মানুষ এরশাদের জানাজায় অংশ নেন।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাজা শেষে রংপুরে করার দাবি জানান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। এ সময় যেকোনো মূল্যে মরদেহ রংপুরে দাফন করা হবে বলে লক্ষাধিক মানুষকে ব্যারিকেড দেওয়ার নির্দেশও দেন মেয়র মোস্তাফিজ। এই দাবির পরেই এরশাদের লাশবাহী গাড়ি নিয়ে পল্লী নিবাসে নেওয়ার জন্য গাড়িতে উঠে বসেন মেয়র ও ছাত্রসমাজের নেতারা।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এরশাদ পুত্র স্বাদ প্রমুখ।এ সময় জিএম কাদের বলেন, রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় একজন পেয়ারা থেকে এরশাদ রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠেছিলেন। রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এরশাদ।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এরশাদের দাফন রংপুরে করার দাবিতে জানাজা শেষে হট্টগাল শুরু হয়। জানাজা শেষে রংপুরে এরশাদের মরদেহ দাফনের জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে মরদেহ বহনকারী গাড়ি। এ সময় ১৫ মিনিট আটকে রাখা হয় মরদেহ বহনকারী গাড়ি। পরে জনস্রোত উপেক্ষা করে জানাজা মাঠ ত্যাগ করে গাড়ি। সেখান থেকে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গাড়িটি। গাড়িটিতে আছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান।

এর আগে দুপুরে এরশাদের মরদেহ কালেক্টরেট মাঠে আসার পরপরই পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে মরদেহের কাছে ছুটতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। উপচেপড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব‍্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাজায় অংশ নিতে এবং তাকে শেষবারের মতো দেখতে জনস্রোতে পরিণত হয়েছে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান। দুপুর সোয়া ১২টায় মরদেহ আসার পর পরই পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে মরদেহের কাছে ছুটতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব‍্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহ রংপুরে দাফনের জন্য স্লোগান দিতে থাকেন।

রংপুরের মানুষ বরাবরই এরশাদের প্রতি দুর্বল। প্রতিটি নির্বাচনে এরশাদ রংপুর থেকে জয়ী হয়েছেন। সর্বশেষ একাদশ নির্বাচনে রংপুর ৩ (সদর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এরশাদ। এ আসন থেকে টানা ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। রংপুরকে এরশাদের ঘাঁটি বলা হয়।

তাই রংপুরের পল্লী নিবাসে এরশাদকে দাফন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা এরশাদকে কোনোভাবেই রংপুরের বাইরে দাফন করতে দেয়া হবে না। রংপুরেই হবে পল্লীবন্ধু এরশাদের দাফন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত