মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভাড়ায় ফ্ল্যাট পাবে বস্তিবাসী: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। ইস্কাটন গার্ডেন রোডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার। সুইচ টিপে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সাতটি প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এক হাজার ৬৭১টি ফ্ল্যাট উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্তিবাসীরা নাজুকভাবে থাকলেও তাদের ভাড়া কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। তারা যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সে জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন, সপ্তাহ বা মাসভিত্তিক ভাড়া পরিশোধ করতে পারবে। সেখানে উন্নত পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সুপরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো হতে হবে পরিকল্পনা অনুযায়ী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তাতে সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বস্তিবাসীরাও ফ্লাটে বসবাস করার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহছাড়া থাকবে না। প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, জমি পাবে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আগে আট ভাগ সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেত। এখন ৪০ ভাগ পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি মধ্যবিত্ত, নিন্মমধ্যবিত্তদের জন্য ফ্ল্যাট প্রকল্প করেছি। উত্তরা, ভাষানটেক, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত। তারা যেন মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, আবাসন নিয়ে যাতে তাদের চিন্তা করতে না হয়, সে কারণে এ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বর্তমানে সরকারি ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জন্য চমৎকার ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। এ ফ্ল্যাটগুলো নিজের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। পানি, বিদু্যৎ ও গ্যাস খরচের বেলায় সাবধানী হবেন। কোনোক্রমেই এসবের অপচয় করবেন না। আপনাদের যে দামে পানি, বিদু্যৎ ও গ্যাস দেয়া হয়, তার চেয়ে খরচ অনেক বেশি পড়ে। যে ব্যয়ভার সরকার বহন করে।

আর্কিটেকচার ও প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনেও ঢাকা ও ঢাকার চারপাশে যেসব পুকুর, খাল, লেক, ঝিল ও জলাশয় আছে, সেগুলো ভরাট করে বিল্ডিং করতে চাই,লে সে কাজ করবেন না। যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ করবেন পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রেখে। এটা আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ। আশা করি, এ অনুরোধটা রাখবেন।

তিনি বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের জন্য আধুনিক আবাসনের সুযোগ সুবিধা তৈরি করা হবে। জেলা উপজেলায় পরিকল্পিত আবাসন না করা গেলে, এক সময় কৃষি জমি শেষ হয়ে যাবে। তিনি জেলা উপজেলায় আবাসন গড়ে তোলার জন্য মাস্টার প্লান করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত