শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

এরশাদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, দাফন ১৬ জুলাই

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য ও সেনা সদস্যসহ জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সিএমএইচ থেকে এরশাদের মরদেহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট জামে মসজিদে নেয়া হয়।

এর আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ রোববার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। এরশাদের মরদেহ সোমবার (১৫ জুলাই) রংপুরে নেওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া প্রতিকূল না থাকায় জাতীয় পার্টি সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে।

রাঙ্গাঁ জানান, ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হবে। এরপর মরদেহ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় পার্টির কাকরাইল আফিসে নেওয়া হবে। কাকরাইল অফিসে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাবেন। নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে এরশাদের মরদেহ বায়তুল মোকাররম মসজিদে নেওয়া হবে। বাদ আছর জাতীয় মসজিদে তৃতীয় জানাজা হবে। এরপর মরদেহ রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে (সিএমএইচ) এর হিমঘরে রাখা হবে।

রাঙ্গাঁ আরও জানান, আবহাওয়া প্রতিকূলে না থাকায় ১৬ জুলাই সকাল ১০টায় মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে নেওয়া হবে। রংপুর জেলা স্কুল মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে ওইদিন বিকেলে ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে এরশাদকে দাফন করা হবে।

রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায় তার জন্ম।

১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নাগাদ তিনি প্রধান আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন শুরু করেন।

১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এ সামরিক শাসক। এরপর তাকে বেশ কয়েকবছর কারাবরণ করতে হয়।

রক্তে হিমোগ্লোবিন ও লিভারে দীর্ঘদিনের সমস্যার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২৬ জুন) সিএমএইচ-এ ভর্তি হন এরশাদ। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছর ১২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। ফলে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেননি তিনি। নির্বাচনে জয়লাভের পর দেশে ফিরে শপথ নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন।

এরপর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত ২০ জানুয়ারি ফের চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুর যান তিনি। দেশে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে সিএমএইচেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এরশাদ।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত