রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

লোভে পড়ে পুঁজিবাজারে সব টাকা বিনিয়োগ করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

পুঁজিবাজারে কীভাবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা অর্থ বিনিয়োগ করবেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লোভে পড়ে পুঁজিবাজারে সব টাকা বিনিয়োগ না করতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটার ট্রেনিং ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ( এডিবি)’র উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

কনফারেন্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন বা যারা খরচ করেন তাদের একটা অনুরোধ করব- আপনারা যখন বিনিয়োগ করতে যান বা খরচ করতে যান, যে টাকা উপার্জন করেন তার সবটুকু খরচ করে ফেলবেন না। জেনেবুঝে বিনিয়োগ করবেন। কিছু টাকা জমা রেখে তারপর বিনিয়োগ করবেন।

লোভে পড়ে সব টাকা বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, যতটুকু লাভ পাওয়া গেলে, আরও বেশি পাওয়ার লোভে সবটুকু খরচ করে ফেলে শেষে শূন্য হয়ে যেতে হয়। সেটা যেন না হয়। এজন্য যাই উপার্জন করুন, কিছু হাতে রেখে জমা রাখবেন, কিছু খরচ করবেন। তাহলে আমার মনে হয় আপনাদের আয় স্থিতিশীল থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্কার করে পুঁজিবাজারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। যতবেশি মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে ততবেশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের যোগান দিতে আমাদের সরকার একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সকল শর্ত পূরণ করেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার সাড়ে ৬ শতাংশের উপরে এবং গত অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে তাদের জন্য যেন একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময় হিসাবে পৃথিবী গ্রহণ করেছে। এই অর্জনটা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে শিল্পায়নের মাধ্যমে অধিক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এই শিল্পায়নের জন্য দেশি বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ও বিনিয়োগে অংশীদার করা সম্ভব। ফলে, যত বেশি মানুষ পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত হবে, আমাদের শিল্পায়ন তত বেশি ত্বরান্বিত হবে।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ২০২০-২১ সালে আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করব। তাই আমরা ‘২০২০-২১’ সালকে মুজিব বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানেই থেমে যাইনি। আমরা আরও সামনে যেতে চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ২১০০ সালে বাংলাদেশ কিভাবে উন্নত হবে, সেটা লক্ষ্য রেখে আমরা ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করেছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

২০৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে। তখন তো আমি আর থাকব না। কারণ এখন তো অনেক বয়স হয়ে গেছে। এতোদিন বাঁচব না। কিন্তু আজকের যে নতুন প্রজন্ম বা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে তাদের জন্য এই বাংলাদেশটা একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কিন্তু আমরা এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

বিশ্বের সামনে উন্নয়নের একটা রোল মডেল হিসাবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অবস্থা থেকে যেন আর কোনোমতেই পিছনে ফিরতে না হয়। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা যে স্বপ্ন সোনার বাংলা, সেই সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলব।

একে অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হয়ে নিজ নিজ দেশের পুঁজিবাজারের ভীতকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস পাবেন। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে দায়িত্বরত এডিবি প্রধানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। ৮-১১ জুলাই চার দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে জাপান, নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ ৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত