বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

রিকশা চলতে না দিলে ৭২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

রাজধানীর প্রধান তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ রিকশার চালকরা। তাদের দাবি প্রয়োজনে আলাদা লেন বানিয়ে রিকশা চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে দাবি আদায়ে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে ৭২ ঘণ্টা টানা সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন রিকশা মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন।

সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর সায়েদাবাদ-উত্তরা মহাসড়কের মানিকনগর-শাহজাহানপুর অংশে অবরোধ করেন রিকশা চালকরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা একদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করেন। আজকের মতো দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকার সড়কগুলো আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।

রিকশা মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘সড়কে অন্য যানবাহন চলার পাশাপাশি রিকশা চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। রাস্তা বন্ধ থাক বাধা দেব না, কিন্তু রিকশার জন্য আলাদা লেন করতে হবে। আলাদা লেন না করে রিকশা চলাচল বন্ধ করা যাবে না।’

আন্দোলনকারী এই নেতা আরও বলেন, ‘রিকশা বন্ধে মেয়রের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। এটি আমরা মানব না। প্রাইভেট গাড়িকে অধিক সুবিধা দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত মানলে আমাদের বউ বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।’

‘আমাদের দাবি রিকশা চলবে। এই দাবি না মানা পর্যন্ত সড়ক ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিকেল তিনটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।’

আন্দোলনকারী আবুল কাশেম বলেন, ‘রিকশা বন্ধ হলে সবাই বিপাকে পড়বে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে অসুবিধায় পড়বেন। অফিসগামী লোকজন বিপদে পড়বেন।’

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে উত্তরা, গাজীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলো সায়েদাবাদ হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল করে। শুধু তাই নয় এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকে আসা চট্টগ্রাম, কুমিলা, নোয়াখালী ও কক্সবাজারগামী পরিবহনগুলোও এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে।

রিকশা শ্রমিকদের আকস্মিক এ আন্দোলনের ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে আশেপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে চলাচল করেন বিভিন্ন গন্তব্যগামী লোকজন।

সমাবেশ চলাকালীন আশেপাশে পুলিশের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যায়নি। স্বাভাবিক দিনগুলোর মতো দুই চারজন পুলিশ সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

মুগদা থানার এসআই এহসান সবুজ বলেন, ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। রিকশা শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত