রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জামিন নামঞ্জুর, মিজান কারাগারে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে অভিযোগটি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। মানি লন্ডারিং, ঘুষ দেওয়া ও সম্পদ হিসেবে বিবরণ আসামির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। মামলার প্রাথমিকভাবে ওনার অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিজানুর রহমান এক সম্মানিত ব্যক্তি। দেশে-বিদেশে ওনার অনেক প্রশংসা রয়েছে। আসামি তার সমস্ত সম্পদের হিসাবের বিবরণ আদালতে দাখিল করেছেন। এড়াছাও তিনি বয়স্ক একজন মানুষ, শারীরিকভাবে অসুস্থ। মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা জামিন যোগ্যধারা। আসামি জামিন পেলে জামিনের কোন শর্ত ভঙ্গ করবেন না।’

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু, তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, ‘দুদক যে এজহার দায়ের করা হয়েছে তা শতভাগ ইনকোয়ারি করে। কমিশন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এ এজাহার দায়ের করেছে। আসামির চাকরি জীবনের যে কত টাকা আয় করতে পারবেন তা কমিশনের জানা রয়েছে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি সম্পদ অর্জন করেছেন।’ এড়াছা যেই আসামি গ্রেফতার হয় সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন, বিষয়টি হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেন দুদক আইনজীবী।

তিনি আরও বলেন, ‘দুদকের দায়ের করা মামলার সব কয়টি ধারা জামিন অযোগ্য। দুদক আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তার সত্যতা পেয়েছে। সর্বপরি আসামি মিজানুর রহমানের জামিনের বিরোধিতা করছি।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আদালত আসামি মিজানুর রহমানকে সকাল ১০.৪৫ মিমিটের দিকে আদালতে তোলা হয়। এরপর সাড়ে ১১ থেকে দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত শুনানি চলে। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

গতকাল সোমবার (২ জুন) দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজানকে হেফাজতে নেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিজানকে হাইকোর্ট থেকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

২০১৮ সালের জুনয়ারিতে এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে জোর করে বিয়ে এবং সম্পর্ক গোপন রাখার অভিযোগে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। পরে মিজানের শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পুলিশের বিতর্কিত এই কর্মকর্তা। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা তদন্ত করছিলেন এনামুল বাছির। মিজান এ সম্পর্কিত একটি অডিও বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে সরবরাহ করেন। এরপরই দুদক তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে কমিশন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে, তিন কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে (ডিআইজি) মিজানুর রহমানসহ তার স্ত্রী, ভাই ও ভাগ্নের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিধিমালা সংশোধনের পর দুদক কার্যালয়ে করা এটিই প্রথম মামলা। এর আগে থানায় মামলা করতে হতো।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত