মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

যে প্রশ্নের উত্তর নেই বাংলাদেশের কাছে

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

আলোচনাটা বিশ্বকাপের আগ থেকেই হচ্ছে। কাল কার্ডিফে বাংলাদেশ-ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচের পর আরেকবার হলো। এবারের বিশ্বকাপে তবে ম্যাচ জেতাবেন রিস্ট স্পিনাররা?

৪৯ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে যখন এগিয়ে নিচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস, তাঁদের দুজনকেই থামিয়ে দিয়েছেন ভারতের দুই রিস্ট স্পিনার—যুজবেন্দ্র চাহাল আর কুলদীপ যাদব। শুধু মুশফিক-লিটন নয়, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনও শিকার চাহাল-কুলদীপের। দুই ভারতীয় স্পিনার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ঠিক বিপরীত ছবি বাংলাদেশের বোলিংয়ে। সাকিব-মিরাজদের নির্বিষ বোলিংয়ে লোকেশ রাহুল ও মহেন্দ্র সিং ধোনি যখন চড়াও হচ্ছিলেন, বোলিং আক্রমণে একজন রিস্ট স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়েছে বারবার। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে যেটি ঘাটতি, ভারতের সেটিই শক্তি—কাল ম্যাচের পার্থক্য হয়েছে তো এখানেই।

ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে একজন ফিঙ্গার বা অফ স্পিনারের সঙ্গে রিস্ট স্পিনারের পার্থক্য কোথায়, সেটিই কাল মিক্সড জোনে এসে বলে গেলেন চাহাল, ‘অফ স্পিনার বা ফিঙ্গার স্পিনাররাও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে রিস্ট স্পিনাররা ফিঙ্গার স্পিনারদের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্য আনতে পারে। রিস্ট স্পিনারের হাতে যেহেতু তিন-চারটা ভ্যারিয়েশন থাকে, ব্যাটসম্যানরা নিশ্চিত হতে পারে না পরে কোন বলটা আসছে।’

প্রস্তুতি ম্যাচের বড় উপকারিতা, সচেতন হওয়া যায় নিজেদের ভুল কিংবা দুর্বলতা সম্পর্কে। কাল ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তো বোঝাই গেল—রিস্ট স্পিনারদের বিপক্ষে বড় পরীক্ষা দিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানকে। অথবা নিজেদের বোলিং আক্রমণে একজন লেগ স্পিনার না থাকার মূল্য দিতে হবে। কিন্তু সব জেনে-বুঝেও কি এ চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়া যাবে? নিজেদের দলে একটা ভালো মানের রিস্ট স্পিনার থাকার দুটি উপকারিতা—প্রথমত, তিনি সহায়তা করতে পারেন সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের ভালোভাবে তৈরি হতে। দ্বিতীয়ত, ম্যাচে নিতে পারেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের তো কোনোটাই নেই। কীভাবে উতরে যাবে তারা এই চ্যালেঞ্জ, দলের স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশিকে কাল কার্ডিফে ম্যাচ শেষে এ প্রশ্নটা করা হলে তিনি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কোনো উত্তর দিতে পারলেন না, ‘নিশ্চিত মূল পর্বের উইকেট আরও বেশি ভালো হবে। ইংল্যান্ডের যে কটি উইকেট দেখেছি, সেখানে ওয়ানডেতে পাকিস্তান খুব একটা টার্ন পায়নি। উইকেট ন্যাড়া ছিল। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় ওভালে মূল পর্বের ম্যাচের কন্ডিশন ভিন্ন হবে।’

স্পিন কোচ যখন নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে তাকিয়ে থাকেন কন্ডিশনের দিকে, সেটি বড় চিন্তার কারণ না হয়ে পারে?

Print Friendly, PDF & Email

মতামত