বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং

২০২২ সালের মধ্যে ভারত শক্তিশালী রাষ্ট্র হবে, অঙ্গীকার মোদির

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

@ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। ভারতের ইতিহাসে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরেছেন মোদি। একক দল হিসেবেই তার নেতৃত্বাধীন বিজেপি তিন শতাধিক আসনে জয়ের পথে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও তাই বিশ্বনেতাদের অভিনন্দনে সিক্ত হতে থাকেন মোদি। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিজয় ভাষণও দেন তিনি। এতে মোদি ২০২২ সালের মধ্যেই ভারতকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন দেশবাসীর কাছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল থেকে শুরু হয় ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেলা গড়িয়ে দুপুর হতেই স্পষ্ট হতে থাকে, বিজেপিকে ঠেকাতে পারছে না প্রতিপক্ষরা। বরং ২০১৪ সালের চেয়েও বেশি আসনে জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। সন্ধ্যা নাগাদ জানা যায়, বিজেপি এককভাবেই হয়তো তিন শতাধিক আসনে জয় পারে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে দলের প্রধান কার্যালয়ে মোদি সুনিশ্চিত জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই নির্বাচনে কোনো একজন রাজনৈতিক নেতা বা একটি রাজনৈতিক দল লড়াই করেনি। এই নির্বাচন লড়ছে ভারতের জনগণ। কিন্তু যারা তাদের চোখ ও কান বন্ধ করে রেখেছে, তারা এটা বুঝতে পারবে না। আজ যদি কেউ জিতে থাকে তাহলে সেটা জিতেছে গণতন্ত্র ও এ দেশের মানুষ।

‘আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আসছে দিনগুলোতে আমি কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সেসব কাজ করব না। কাজ করার সময় ভুল হতে পারে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করা হবে না,’— বলেন মোদি।

নিজেদের বিশাল জয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, আমরা পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে এসেছি। এটা আমাদের ওপর জনগণের বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমি আমার দলের সভাপতি থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মীকে তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এনডিএ নেতারাও কঠোর পরিশ্রম করেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের সহায়তা করেছেন।

নাম উল্লেখ না করে কংগ্রেস ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কটাক্ষ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ বছর ধরে এ দেশে একটি নাটক চলেছে। এমন একটি ট্যাগ ছিল, যেটি গায়ে জড়ালে সকল পাপ ধুয়ে-মুছে যেত। ওই ভুয়া ট্যাগ ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। ধর্মনিরপেক্ষদের ঐক্যতার জন্য স্লোগান দেওয়া হতো। কিন্তু আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, ২০১৪-২০১৯ সালের মধ্যে এই ট্যাগ লাগানো ব্যক্তিদের সবাই চুপ হয়ে গেছে। এই নির্বাচনে কোনো একক দল দেশকে ভুয়া ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না। সব রাজনৈতিক পণ্ডিতদের গত শতকের পুরনো চিন্তাভাবনা বাতিল করতে হবে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতকে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের মধ্যে ভারতকে শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রে পরিণত করব, এটা আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকার।’ ওই বছরই ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে।

দিল্লিতে মোদি ভাষণ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সেখানে ঝড়ে যায় এক পশলা বৃষ্টি। জয়ের উচ্ছ্বাসে সে বিষয়টিও নজর এড়ায়নি মোদির। তিনি বলেন, আজ আমাদের উদযাপনে যোগ দিয়েছেন বৃষ্টি দেবতারাও। আজ ভারতের নাগরিকরা ফকিরের ঝুলি পূর্ণ করে দিয়েছে। আমি ১৩০ কোটি ভারতীয় নাগরিকের সামনে মাথা নত করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এবারের লোকসভা নির্বাচনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বহু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু এই নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। তাও আবার, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত