বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং

আবার বড় জয়ের পথে বিজেপি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তবে এরইমধ্যে বিভিন্ন জরিপ মতে আবারও বড় জয়ের পথে বিজেপি। বুথফেরত জরিপে ভোটগণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক গণনায়, ৫৪২ আসনের পার্লামেন্টে ৩৪৩ আসনে এগিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপি।  এদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট এগিয়ে রয়েছে ৮৩ আসনে।  অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান ১১২।  উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও শক্ত অবস্থান তৃণমূল কংগ্রেসের।

বিহারসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোয় এগিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট বা স্থানীয় দলগুলো।  অবশ্য ধারণা করা হচ্ছে, বিকেলের আগেই স্পষ্ট হয়ে যাবে ভোটের ফল।  বুথফেরত জরিপে স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত বিজেপির।  চলছে সরকার গঠনের প্রস্তুতিও।

এবারের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নির্বাচনে।  তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধির ক্ষেত্রে বিজেপিকে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি ইভিএম জালিয়াতিতে বিজেপিকে সহায়তার আশঙ্কা জানিয়েছে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধীরা।

সকাল সাড়ে ছয়টায় পর্যবেক্ষক, রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীর উপস্থিতিতে স্ট্রংরুম খোলা হয়। সকাল ৮টায় পোস্টাল ব্যালট দিয়ে ভোটগণনা শুরু হয়।  নির্বাচন কমিশন বলছে, এবার ফলাফল খানিকটা বিলম্বিত হতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আসনপ্রতি পাঁচটি করে বুথের ইভিএম আর ভিভিপ্যাটের (প্রিন্টার) ফল মেলানোর কথা। ইভিএমে ভোট দেওয়ার পর ভোটার নিজেই ভিভিপ্যাট প্রিন্টার থেকে ছাপা হয়ে বের হওয়া কাগজের স্লিপে দেখে নিতে পারেন যে- তিনি যেখানে ভোট দিয়েছেন, সেখানেই ভোট পড়েছে কি-না। এই স্লিপটি ভোটার নিতে পারেন না, কেবল দেখতে পারেন।

১৭তম লোকসভার ২৯টি প্রদেশের ৫৪২টি আসনের সাত ধাপের নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হয়েছে। এবার প্রায় ৯০ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গত ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই নির্বাচন।  ১৪টি বুথফেরত জরিপের মধ্যে ১২টি-ই আভাস দিয়েছে আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

ভারতের সংসদ দ্বিকক্ষ-বিশিষ্ট। এর মধ্যে একটি হলো লোকসভা, এটি নিম্নকক্ষ; আরেকটি রাজ্যসভা, সেটি উচ্চকক্ষ। লোকসভায় মোট আসন ৫৪৫। এর মধ্যে ৫৪৩ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। বাকি দুটি আসনে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান প্রতিনিধিকে মনোনীত করে আনা হয়। সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় ২৭২ আসনের প্রয়োজন।

রাজ্যসভার সদস্য সংখ্যা ২৫০। এরা রাজ্য বা অঞ্চলগুলোর বিধানসভার সদস্যদের ভোটে রাজ্যসভায় আসেন। ৫৪৩টি আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

সার্ভিস ভোটারদের পর ইভিএমের ভোট গণনা শুরুর কথা রয়েছে। ইভিএমের গণনা শেষে ভিভিপ্যাট মেলানোর পালা। কমিশনের নির্দেশনা মেনে ভিভিপ্যাট গণনার জন্য বিধানসভা পিছু ৫টি করে বুথ লটারি করে বাছাই করা হবে।

তবে এবার ফল জানতে  অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।  ইভিএম-এর সঙ্গে সংযুক্ত ভিভিপিএটি যন্ত্রে পাওয়া ভোটের স্লিপগুলোর একাংশও মিলিয়ে দেখতে গিয়ে সব আসনের ফল ঘোষণা করতে বৃহস্পতিবার রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

এদিকে বৈদ্যুতিক ভোটযন্ত্র বা ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিরোধী দলগুলো। ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ফেরার দাবি তুলেছিলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, তেলুগু দেশম, এসপি, বিএসপি, ডিএমকে, পিডিপি-সহ বিভিন্ন দলগুলো।  ভারতের নির্বাচন কমিশন বরাবরই সেই দাবি নাকচ করে আসছে।  তারা বলছে, ইভিএম যে হ্যাক করা যায় না।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত