শুক্রবার, ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং

গ্রিন লাইনের আচরণ ভালো লাগেনি: হাইকোর্ট

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা শপথ নিয়েছি। আমাদের রাগ, বিরাগ ও অনুরাগের কিছু নেই। তবে গ্রিন লাইনের আচরণ আমাদের ভালো লাগেনি।’ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রিন লাইনের আইনজীবীর উদ্দেশে আজ বুধবার এ কথা বলেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো রাসেল সরকারকে অর্থ প্রদানে অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে এই মন্তব্য আসে। শুনানির শুরুতে গ্রিন লাইনের আইনজীবী ওজিউল্লাহ বলেন, ২০ তারিখের পর থেকে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়েও বলেনি। তাদের আচরণে তিনি খুশি নন। তাই গ্রিন লাইনের পক্ষ থেকে মামলা পরিচালনা ক্ষমতা প্রত্যাহার করার কথাও বলেন তিনি। 

আদালত বলেন, ‘আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার যা মত, তা করতে পারেন। আমরা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেব।’ গ্রিন লাইনকে আদালত সতর্ক করে দিতে পারেন বলেও মত দেন এই আইনজীবী।

এ সময় আদালত রাসেলের চিকিৎসার খোঁজখবর জানতে চান। জবাবে রিট আবেদনকারী আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, ‘চিকিৎসা চলছে। গত তারিখের পর গ্রিন লাইন আর যোগাযোগ করেনি। বনানীর একটি ক্লিনিকে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে, যেখানে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই অর্থ গ্রিন লাইন দিয়েছে।’

রাসেল হাঁটতে পারেন কি না, আদালত তা জানতে চাইলে জবাবে শামসুল হক রেজা বলেন, রাসেল পুরোপুরি হাঁটতে পারেন না, ক্রাচে ভর দিয়েই হাঁটতে হয়। আদালত বলেন, দুর্ঘটনায় তাঁর দুটি পা-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, রাসেল যেখানে চাকরি করতেন, সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য ঋণ নিয়েছেন। গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়ার প্রক্রিয়া করছে, যা গণমাধ্যমে এসেছে। আদালত বলেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গেও গ্রিন লাইনের যোগাযোগ হয়নি বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। তিনি তাঁর পাওয়ার প্রত্যাহার (মামলা পরিচালনার ক্ষমতা) করার কথা বলেছেন। তিনি পাওয়ার প্রত্যাহার করলে পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আদালত রিট আবেদনকারী আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজার উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগ সামগ্রিকভাবে আদেশের প্রতিফলন করি না। দেখেন, তাঁরা এসে বলেননি কমিয়ে দেন (অর্থ), অসুবিধা আছে। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। রাসেলের দুটি পা-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁরা ব্যবসা করবে, তাঁদের মানবীয় মূল্যবোধ থাকা উচিত। চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে।’

আইনজীবী ওয়াজিউল্লাহর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনি এখনো গ্রিন লাইনের আইনজীবী আছেন। আপনি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। নমনীয়তাকে দুর্বলতা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না।’

এরপর আদালত ২৫ জুন পরবর্তী আদেশের তারিখ ধার্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত