মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ভারতে চালকের আসনের পরিবর্তন হচ্ছে?

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

ভারতে ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের মাঠে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর অন্যতম ছিল নরেন্দ্র মোদি। আবার নাকি দিল্লির মসনদে আসছে বদল? ভোটের রাজনীতিতে সারা বিশ্বের আলোচনার বিষয় ছিল ৯০ কোটি ভোটার আসলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কাকে বেছে নেবেন। সাত দফার ভোট শেষে সেই উত্তরের কিছুটা আভাস মিলেছে। দেশের ভার আরও একবার মোদির হাতেই থাকছে এবং আগের চেয়ে তা বেশি আসন নিয়ে।

ভারতের নির্বাচন এলেই সবচেয়ে আলোচনায় থাকে উত্তর প্রদেশ। কারণ, ৫৪৩ আসনের মধ্য ৮০টি এ রাজ্যে। এ রাজ্যের দখলে রাখতে পারলে ম্যাজিক ফিগার ২৭২-এ টপকে যাওয়া যায় সহজেই। আর তাই ভারতের বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের ফলাফলের দিকে চোখ থাকে সবার। ব্যত্যয় হয়নি এবার। নির্বাচন জিততে সব দলই নজর দেয় উত্তর প্রদেশে। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে ভোটে নামে বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। কিন্তু বুথফেরত জরিপে আভাসে দেখা যাচ্ছে, বুয়া-ভাতিজার (ফুফু-ভাতিজা) জোট এবার শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হতে চলেছে উত্তর প্রদেশে।

রাজ্যের সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাজোটে’র ফলাফল কী হতে চলেছে, সেদিকে নজর পুরো ভারতের। বুথফেরত সমীক্ষায় উত্তর প্রদেশ নিয়ে কী তথ্য আসছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর সেদিকেও লক্ষ্য ছিল সবার। কিন্তু গতকাল বুথফেরত সমীক্ষায় উত্তর প্রদেশ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা থেকে যা যা তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে মানুষের আগ্রহ আর বেড়ে যাওয়ার কথা।

ভারতের রাজনীতি অন্দরে একটি কথা আছে, উত্তর প্রদেশ যার দিল্লিই তার। কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের চাবিকাঠি সব সময় উত্তর প্রদেশেরই হাতেই থাকে। এ রাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। উত্তর প্রদেশের বিধানসভা ভোটকে ‘মিনি পার্লামেন্ট ভোট’ও বলেন অনেকেই। গেলবারের লোকসভা ভোটেও উত্তর প্রদেশ থেকেই অসাধারণ ভালো ফল করে বিজেপি ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এবার বুথফেরত সমীক্ষায় যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কেন্দ্র সরকার গঠনের নির্ণায়কের চাবিকাঠি এত দিন পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের হাতে ছিল, তা আর থাকছে কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির আসনসংখ্যা এবারে উত্তর প্রদেশে কমছে।

অর্থাৎ, উত্তর প্রদেশের আসনসংখ্যার ওপরে এবার ভারতে কেন্দ্র ক্ষমতা দখলে নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকছে না। এ কথাই জানান দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ। উত্তর প্রদেশের ৮০টির মধ্যে গতবার বিজেপি একাই পেয়েছিল ৭৩ আসন। এবার বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উত্তর প্রদেশে বিজেপির ১৫ থেকে ২০ আসন কমতে পারে বলে বলা হচ্ছে। আবার কারও কারও জরিপে ৫০ আসন কমার কথাও বলা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে যে কী হতে চলেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই। এই ধোঁয়াশা কাটতে সময় লাগবে। অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে পর্যন্ত। ২৩ মে ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়েই এ ধোঁয়াশা কাটবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তবে যোগীর রাজ্য গতবারের চেয়ে বিজেপির আসন অনেক কমবে এবং কেন্দ্রে সরকারের গড়ার ক্ষেত্রে তা বিজেপির জন্য বাধা হবে না বলেই প্রায় সব বুথফেরত জরিপে পূর্বাভাস মিলেছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশ এবার আর চালকের আসনে বা নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকছে না, যা অতীতে সব সময় দেখা গেছে।

উত্তর প্রদেশে বিজেপির আসন যেমন কমছে বলেই অধিকাংশ বুথফেরত জরিপে তথ্য মিলেছে এসেছে, তেমনি সেখানে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় লোকদলের ‘মহাজোট’ বেশ ভালো ফল করবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

ফল কতটা ভালো হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপের মধ্যে পার্থক্য আছে। কোনো সংস্থার জরিপে মহাজোটের অসাধারণ ফলের কথা বলেছে। আবার কোনোও জরিপে তেমন ভালো কিছু হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সব সংস্থার সমীক্ষায়ই সপা-বসপা, আরএলডির জোট অন্ততপক্ষে ২০টি আসন পেতে চলেছে। বিজেপির আসন কমলেও কংগ্রেস এ রাজ্যে ভালো কিছু করতে পারবে না বলেই ইঙ্গিত। প্রায় সব জরিপ বলছে, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস দুটি থেকে তিনটি আসন পেতে চলেছে। ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী রায়বেরেলি এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিপুল ভোটে আমেথিতে জিতছেন। এর সঙ্গে কংগ্রেস খুব বেশি হলে আর একটি মাত্র আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে বলা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশে এই প্রথম সপা-বসপা জোট হয়েছে। দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। মায়াবতী-অখিলেশ হাত মেলানোয় পর থেকেই উত্তর প্রদেশ এবারের কেন্দ্রে সরকার গঠনে নির্ণায়কের ভূমিকা নিতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সে সম্ভাবনা আর নেই বললে ভুল বলা হবে না। বুথফেরত জরিপ কখনোই শতভাগ নিশ্চিত নয় এবং অতীতে অনেক সময়ই বুথফেরত জরিপ মুখ থুবড়ে পড়ার নজিরও আছে। এখন দেখার বিষয় হলো বুথফেরত জরিপকে ‘নকআউট’ করে উত্তর প্রদেশ আবার আগের মতোই কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের নির্ণায়কের ভূমিকায় উঠে আসতে পারে কি না। উত্তরের জন্য ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

বুথফেরত বিভিন্ন জরিপের আভাসমতে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ বিপুল আসন জিতে আবারও ক্ষমতায় বসতে চলেছে। ৩০০-রও বেশি আসন পেতে যাচ্ছে এনডিএ। এবারও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটকে এনডিএ জোট অনেকটাই পেছনে ফেলে দেবে। অন্যরাও পেছনে পড়বে।

গতবারের (২০১৪) নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছিল ৩৩৪ আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছিল ২৮২ আসনে। ইউপিএ পেয়েছিল মাত্র ৬০টি আসন। এর মধ্য কংগ্রেস জয় পেয়েছিল ৪৪ আসন। আর অন্যরা পেয়েছিল ১৪৯ আসন।

জরিপে বলা হচ্ছে, গতবারের তুলনায় এনডিএর আসনসংখ্যা এবার বাড়তে পারে। এনডিএর আসন বাড়তে পারে ৬টি। আর ইউপিএর আসন বাড়তে পারে ১০টি। অন্যদের আসনসংখ্যা কমতে পারে ১৬টি। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ও টিওআই

Print Friendly, PDF & Email

মতামত