শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

বুলিং নিষিদ্ধ করে নীতিমালা আদালতে, এক মাসে চূড়ান্তের নির্দেশ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘বুলিং’ নিষিদ্ধ করে জাতীয় নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অন্য শিক্ষার্থীকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট বিভাগ। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা ও জেসমিন সুলতানা।

এরপর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ নীতিমালা তৈরি করতে নির্দেশ দেন।

গত সপ্তাহে হাইকোর্ট বিভাগে খসড়া নীতিমালা জমা দেয় কমিটি। এরপর আদালত এ বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে এক মাস সময় দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জমা দেওয়া খসড়া প্রতিবেদনে আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে বলেছেন আদালত।

নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি অরিত্রীর আত্মহত্যার পেছনে তার বাবা-মাকে অপমান করার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে ব্যবস্থাপনা কমিটির ব্যর্থতাও রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। সেই কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই বুলিংয়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বুলিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। এতে বিদ্যালয়ের শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়, পরিবেশ বিনষ্ট হয়। যদিও স্কুল বুলিং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। তবে সে রকম কিছু ঘটতে পারে বলে মনে হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই পুলিশের সাহায্য নেওয়ার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দল-উপদলের সৃষ্টি হয়। বুলিং ও ভিকটিম উভয়কে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে কাউন্সেলিং করতে হবে। যেন তাদের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।

নীতিমালায় স্কুল বুলিংয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালে, শুরুর আগে বা পরে, শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বাইরে কোনো শিক্ষার্থীর দ্বারা (এককভাবে বা দলগতভাবে) অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, অশালীন বা অপমানজনক নামে ডাকা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, কোনো বিশেষ শব্দ বারবার ব্যবহার করে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করা স্কুল বুলিং হিসেবে গণ্য হবে।

নীতিমালায় তিন ধরনের বুলিংয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাউকে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত, চড়-থাপ্পড় দেওয়া, লাথি ও ধাক্কা মারা, থুথু নিক্ষেপ, জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শারীরিক বুলিংয়ের পর্যায়ে পড়বে।

উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন ও অশালীন শব্দ ব্যবহার ও হুমকি মৌখিক বুলিং হিসেবে চিহ্নিত হবে।

এছাড়া সামাজিক স্ট্যাটাস, ধর্মীয় পরিচিতি বা বংশগত অহংবোধ থেকে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, কারো সম্পর্কে গুজব ছড়ানো এবং প্রকাশ্যে অপমান করা হলে তা সামাজিক বুলিং হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে বুলিং প্রতিরোধে বুলিংকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিলে অভিভাবকরা বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করবে। সন্তানকে স্কুলের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়া বুলিংয়ের ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, সচেতনতা সৃষ্টিতে নাটক মঞ্চস্থ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিরুত্সাহিত, স্কুলে আইসিটি ডিভাইস আনা নিষিদ্ধ করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত