মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং

চুপ করে থাকার দিন শেষ, এবার বলার সময়

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

তানজিদা ফারিয়া:

অনেক তো চুপ করে থাকলাম, এবার মনে করি দেশের একজন কল্যাণকামী নাগরিক হিসাবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মনের আক্ষেপ গুলো বলার সময় হয়েছে..। আজ একটা অন্যায় তো কাল একটা দূর্ঘটনা। ধর্ষণ,সড়ক দূর্ঘটনা আর অগ্নিকান্ডতো আমাদের নিত্যদিনের চলার সাথী হয়েই গেছে। আর দূর্নীতি! সে কথা না হয় পরেই বলি।

স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও আজ আমাদের দেশের শিশুরা পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে! শিশুই হোক বা যুবতী মেয়ে, কেন তারা ধর্ষিত হয়ে খুন হওয়ার পরও খুনি প্রাণে বেচেঁ থাকে? কারোর কিচ্ছু আসবে যাবে না,যা গেল তা আমার দেশের অসহায় মা বাবারই গেল শুধু। এভাবেই চলবে?

রাজধানীতে অধিকাংশ বাস চালক বাস নিয়ে রাস্তায় নামে সাধারণ পথচারীদের উপর গাড়ী চালিয়ে দ্রুততার প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে। লাইসেন্স থাকুক বা না থাকুক দুদিন আটক আর জেল জরিমানা হয়ে খুনি আবার নামবে রাস্তায় খুন করে মনের খোরাগ মেটাতে। এভাবেই চলবে?

আর অগ্নিকান্ড দূর্ঘটনাই বটে কিন্তু আকাশ ছোঁয়া ভবন নির্মাণের অনুমতি থাকলেও সেখানে কোনো বিপদ হলে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার ব্যবস্থা নেই বা থাকলেও তা অকার্যকর। অনুন্নত মানের বিপদরক্ষী যন্ত্রপাতির সাফল্যে কিছু মানুষ বাঁচলেও অনেকের জন্য মৃত্যুই সেখানে অনিবার্য। এভাবেই চলবে?

আর দূর্নীতি! এটা না থাকলে আজ আমার দেশ উন্নয়নশীল এর পথে না উন্নত দেশের তালিকায় থাকতো! আর এই দূর্নীতির সিংহভাগ বহন করেন আমাদের দেশের বড় বড় কাজে দায়িত্বরত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ

যারা সরকারের দেশউন্নয়নের ব্যয়ের অর্ধেকটা নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় করেন।

জেলাভিত্তিক দায়িত্ববহন করছেন যারা তাদের ক্ষমতা দিয়েছে আমজনতা। অথচ কোনো বিপদে বা প্রয়োজনে ক্ষমতাশালীদের নাগাল আমরা পাইনা। আমরা ভিখারীর মতো প্রার্থনা করেও তাদের সাহায্য পাইনা। সরকার কি দেশের রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত খরচ দেন না? নাকি সম্পূর্ণ খরচের টাকা রাস্তা মেরামতের জন্য ব্যয় করা হয়না? যদি ব্যয় হয়েই থাকে তাহলে সেই রাস্তা দুদিন পর পর ভেঙে কিভাবে পথচারীদের ভোগান্তিতে ফেলে?

 

পথশিশুরা পড়াশুনা তো দূরে থাক, দুবেলা খেতে পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের কি ক্ষুধা পাওয়ার অধিকার নেই? নাকি খেতে পাওয়ার অধিকার নেই? আর্থিক সহায়তা এই শিশু গুলো কেন পায়না? জেলা পরিদর্শকরা তাহলে কি পরিদর্শন করেন? কিভাবে তার জেলার উন্নয়ন সম্ভব সেটা নাকি কার পকেটে কত টাকা গেল সেটা?

অন্যান্য জেলার কথা না হয় বাদ দিলাম। আমার দেশের রাজধানী যেখানে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর বাসভবন সেই রাজধানীর আজ একি হাল? যখন রাজধানী হওয়ার কথা নিরাপদ তখন রাজধানীতেই সমস্ত হাহাকার আর ভোগান্তি। কি করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ?

রোজ ঘুম ভাঙলে একটা না একটা দুঃসংবাদ কানে আসে। আর প্রতিনিয়ত তা হৃদয়কে করছে দুঃখভারাক্রান্ত। আর চোখকে করছে অশ্রুসিক্ত। আজ যারা পদ্মাসেতু,মেট্রোরেল সহ নানা বড় বড় সম্পদ তৈরীতে কর্মরত, কে বলতে পারে কাল তাদের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা আছে কিনা।

রোজ রোজ তীব্র হাহাকারে শত শত মায়ের কান্নার আছড় পড়ছে আমার দেশের মাটিতে। এই কি বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশের চিএ আর উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেল?

লেখিকা: কলেজ ছাত্রী।

 

Print Friendly, PDF & Email

মতামত