রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

খিলগাঁও কাঁচাবাজারে আগুন : ‘সব শেষ, কিছুই রইল না’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:

ঢাকার খিলগাঁওয়ে উড়ালসেতুর নিচে কামারপট্টি বাজারে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুন লেগেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে খিলগাঁও কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আজ বৃহস্পতিবার সোয়া ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন বলেন, ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

এদিন সকাল থেকেই বাজারের সামনে জড়ো হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা। তাদের চোখেমুখে সর্বস্বান্ত হওয়ার উদ্বিগ্নতা। মলিন চেহারায় তাকিয়ে আছেন পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর দিকে। তাদের মধ্যে বাজারের সামনে বসে বিলাপ করতে দেখা যায় অনেককে। এর ফলে কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে খিলগাঁও কাঁচা বাজারের পরিবেশ।

ক্ষতিগ্রস্ত এক দোকানি বলেন, ‘রাত ৩টা বাজে আমার রুমমেট আমাকে জানায় আগুন লেগে আমাদের দোকানের সব পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এর পরে এসে দেখি, আব্বা বাড়ি থেকে দোকানের জন্য টাকা এনে পণ্য উঠিয়েছিল, তার কিছুই নাই। সব শেষ।’

আরেকজন বলেন, ‘এটাই আমার শেষ সম্বল ছিল ভাই। সব শেষ হয়ে গেছে আমার।’

ক্ষতিগ্রস্তদের আরেক দোকানি বলেন, ‘রমজান মাস সামনে রেখে আমরা অনেক বেশি পণ্যই দোকানে রেখেছিলাম। প্রায় ২০ লাখ টাকার মাল ছিল। এখন সব শেষ।’

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ অধিক। বলতে গেলে মাত্রারিতিক্ত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। অনেকের আর কিছুই রইল না। সব শেষ।’

তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আবার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন শেষ সম্বলটুকু কতটুকু রক্ষা করা সম্ভব সেই চেষ্টা করেও ফিরছেন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই বাজারে আগুন লাগার আশঙ্কা করছেন তারা। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়। এর পর গত শনিবার গুলশানে কাঁচাবাজারে আগুন লাগে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত