রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

মুক্তিযুদ্ধের তীর্থভূমি হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের স্থানকে চিহ্নিত করে সেখানে একটি সৌধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে তৈরি করা হবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে রাশিয়ার ভিক্টোরিয়া পার্কের আদলে সাজানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঢেলে সাজিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।’

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও প্রয়াত  ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থানগুলোতে ভাস্কর্য নির্মাণ, স্বাধীনতা টাওয়ার প্লাজার সংস্কার, জনসভার মঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া, বসার বেঞ্চ, শিশু পার্কের দেয়ালে ম্যুরাল স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ১৩টি রাইড স্থাপন ও জলাধার নির্মাণ করা।

জানা গেছে, এই প্রকল্পে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে এমনভাবে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হবে যে এসব স্থাপনা দেখে পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাসের ধারাবাহিক পাঠ নিতে পারবে।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, এই উদ্যানে শাহবাগ থানা বা পুলিশের কোনো কন্ট্রোল রুম থাকবে না। ঢাকা ক্লাবের ঠিক বিপরীত পাশে উদ্যানের দেয়াল ঘেঁষে একটি গ্লাস টাওয়ার তৈরি করা হবে। টাওয়ারটি ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে দেখা যাবে। গ্লাস টাওয়ারের পাশ দিয়ে থাকবে উদ্যানে প্রবেশের পথ। পথের পাশে থাকবে দেশি-বিদেশি গাছ। এছাড়া থাকবে একটি সুদৃশ্য পানির ফোয়ারা। এখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। পার্কের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াতের জন্য থাকবে আন্ডারপাস। নতুন নকশা অনুযায়ী শিশু পার্কটিও বর্তমান স্থান থেকে সামান্য পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিদেশিদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে না এ বছর। পরবর্তী সময়ে ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবসে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় ও রাশিয়ার সেনা সদস্য শহিদ হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হবে। এটি হবে মুক্তিযোদ্ধাদের তীর্থস্থান।‘ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতি দুর্যোগ বা বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হলে যথাসময়েই কাজ শেষে হবে।

উল্লেখ্য, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’শীর্ষক একটি প্রকল্প ১৯৯৮ সালের ২৯ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পটি শেষ করা হয়নি, অসমাপ্ত অবস্থাতেই ২০০৫ সালের জুনে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে অসম্পূর্ণ থাকা ১৫০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট স্বাধীনতা স্তম্ভসহ কিছু কাজ ২০১২ সালের জুনে শেষ করা হয়। তবে বেশিরভাগ কাজই বাকি থেকে যায়। এরপর নতুন করে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান যথাযথভাবে সংরক্ষণসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ ও শিশুপর্কের উন্নয়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য ২৩৮ কোটি ১৬২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা কথা ছিল।

কিন্তু এরপর প্রকল্পটির ওপর ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা হয়। ওই সভায় প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বারবার পর্যায়ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ না করে মূল স্থাপত্য নকশা সমন্বয় করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শিশুপার্কের  একটি মহাপরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়। ওই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রকল্পের মাধ্যমেই সব কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এজন্য স্থাপত্য অধিদফতর শিশুপার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। স্থাপত্য অধিদফতর প্রণীত মহাপরিকল্পনার স্থাপত্য নকশাটি চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়। বর্তমানে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রাথমিক ব্যয়ের চেয়ে কিছু বাড়িয়ে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত