রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দলের ‘বোঝা’ বইতে চান না বিএনপির নেতা, পদত্যাগ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:

‘মূল্যায়ন’ না পেয়ে এবং দলের ‘বোঝা’ একা সামলাতে না পেরে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সাইফুল। সম্প্রতি তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার কথাও  বলেছেন এই নেতা। তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার গতকাল বিকেলে বলেন, এখনো তিনি পদত্যাগপত্র হাতে পাননি।

২০১৮ সালের ১২ জুন কোতোয়ালি থানায় ২১ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ঘোষিত কমিটিতে হায়দার আলী বাবলাকে সভাপতি, মোশারফ হোসেনকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, আনোয়ার আল আজিমকে সাধারণ সম্পাদক এবং যথাক্রমে মো. রিয়াদ, মোল্লা সাইফুল ও মুসতাক আহম্মেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

মোল্লা সাইফুল বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গ্রেপ্তার হওয়া থানা সভাপতি এখনো কারাগারে। নির্বাচনের আগে-পরে সাধারণ সম্পাদকের কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কমিটি ঘোষণার পরেই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকের নাগাল পাওয়া যায় না। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুসতাক নির্বাচনের সময় তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ছিলেন। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো হদিস নেই। এমন বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনের সময় গত ১০ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলীয় কর্মকাণ্ড একাই পরিচালনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, থানা কমিটি ঘোষণার আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তাঁকে মূল্যায়ন না করে সাংগঠনিক সম্পাদক (২ নম্বর) করা হয়।

মোল্লা সাইফুল বলেন, দলে তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এরপরও থানা কমিটির রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড তাঁকে একাই সামলাতে হয়েছে। তাঁর পক্ষে এখন আর এত বোঝা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করার পাশাপাশি রাজনীতি ছাড়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির এক নেতা  বলেন, দলের এখন সময় খারাপ। তাই অনেকেই সটকে পড়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হামলা মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে বিএনপি ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার  বলেন, ‘মানুষের কল্যাণের জন্যই আমরা রাজনীতি করি। কেউ যদি মানুষের কল্যাণ করতে না চান, তাহলে কী করার আছে?’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত