রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

চকবাজারে আগুন: বৃষ্টি ও রোহানসহ ১১ জনের লাশ শনাক্ত

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ছাত্রী বৃষ্টি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রোহানের লাশ রয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সা‌ড়ে ১১টার দিকে পু‌লি‌শের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সংবাদ সম্মেলন ক‌রে ১১ লাশ শনা‌ক্তের খবর জানায়। লাশগুলো ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ মর্গ থে‌কে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা (বৃষ্টি ছিল গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের আর তানজিল হাসান খান রোহান ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র।

আগামসি লেনের বাসিন্দা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শিক্ষার্থী তানজিল হাসান রোহানের (১৯) মরদেহও শনাক্ত করা হয়েছে। চার বন্ধু মিলে চুড়িহাট্টায় যাওয়ার পর তাদের দু’জন বেঁচে ফিরেছিলেন। আরেক বন্ধু আরাফাতের লাশ পাওয়া যায় সেখানে। তবে রোহানকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তার মরদেহটিও শনাক্ত হয়েছে। বাবা হাসান খান আর মা রুবি বেগম এসেছেন ছেলের লাশ দিতে।

তাদের মধ্যে ছিলেন শামসুন্নাহার ও তার ছেলে সাইদুল ইসলাম সানি। শামসুন্নাহারের মেয়ে ও সানির বোন ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির (২১) মরদেহটি বুঝে নেবেন তারা। জানালেন, বৃষ্টি ছিলেন হোম ইকোনোমিকস কলেজের চাইল্ড কেয়ার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সন্ধান রয়েছে জানিয়েই পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল একটি প্রতারক চক্র। সেই অমানবিকতার শিকার পরিবারটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টির লাশ শনাক্ত হওয়ায় খানিকটা স্বস্তিও পেয়েছে।

সানি বলেন, এখন অন্তত জানলাম, আমার বোনটি মারা গেছে। ওর লাশটা নিয়ে কবর দিতে পারব। এটুকুই সান্ত্বনা।

সালেহ আহমেদ লিপু (৩৬) ও তার স্ত্রী নাসরিন জাহানের (২৮) মরদেহ বুঝে নিতে ঢামেক মর্গে এসেছেন লিপুর ভাই ইসমাইল হোসেন। তিনি জানালেন, চুড়িহাট্টাতেই থাকতেন লিপু-নাসরিন দম্পতি। ৫ বছরের একটি ছেলেও ছিল তাদের। ঘটনার দিন ইসলামবাগ থেকে চুড়িহাট্টায় ফিরছিলেন তারা। আগুন লাগার পর থেকেই তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল বলেন, ডিএনএ টেস্টের পর লিপু আর নাসরিনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ছেলের লাশ এখনও শনাক্ত হয়নি। জানি না, বাবাটা কোথায় হারাল!

এর বাইরে নুরুজ্জামান, ইব্রাহীম, আহসানুল্লাহ’র মরদেহ নিতেও এসেছেন স্বজনরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহগুলোর কয়েকটি রয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেগুলো আজই উপস্থিত স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় ৬৭ প্রাণ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও চারজন। এর মধ্যে ৫১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। একই সঙ্গে সেদিনই নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির একটি বিশেষজ্ঞ দল ডিএনএ নমুনা (রক্ত, টিস্যু, হাড় ও বাক্কাল সোয়াব) সংগ্রহের কাজ শুরু করে। ঢাকা মেডিকেল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যৌথভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে মোট ৬৭টি মৃতদেহ থেকে ২৫৬টি ক্রাইমসিন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিচ্ছিন্ন হাতকে পৃথক আলামত হিসেবে গণ্য করে সেটি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলে মোট সংগৃহীত ক্রাইমসিন ডিএনএ নমুনার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৭টি।

কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বুথে স্বজনদের কাছ থেকে রেফারেন্স ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ৪৮টি রেফারেন্স ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক দল। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫টি লাশ থেকে ১১ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় নির্ণয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। দ্বিতীয় ধাপে পাঁচটি অজ্ঞাত মৃতদেহের হাড় থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত