শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

সেঞ্চুরি পেয়েও তামিমের মন খারাপ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে সাতটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিন ইনিংসে ন্যূনতম ৫০ রান তুলতে পেরেছে ওপেনিং জুটি। দলের এই তিন ইনিংসেই উইকেটের এক প্রান্তে ছিলেন তামিম ইকবাল। আজও তেমনি সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে তুলেছেন ৫৭। সেটিও মাত্র ৬২ বল খেলে। এমন শুরুর পর প্রত্যাশামতো তামিম সেঞ্চুরি পেলেও দল তো ভালো সংগ্রহ পেল না। তামিমের মন ভালো থাকে কীভাবে!

নিউজিল্যান্ডে তামিমের এই অভিজ্ঞতা কিন্তু নতুন কিছু নয়। এর আগে যে তিনবার ওপেনিং জুটিতে ন্যূনতম ৫০ রান তুলেছেন, দুবারই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরেছে দল। ২০০৮ সালে ডানেডিনে নিজের অভিষেক টেস্টে জুনায়েদ সিদ্দিকের সঙ্গে ওপেনিংয়ে গড়েছিলেন ১৬১ রানের জুটি। দল অলআউট হয়েছিল ২৫৪ রানে। নয় বছর পর ওয়েলিংটনে ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে তুললেন ৫০, কিন্তু দল এবার দুই শ (১৬০) রানই করতে পারল না! এর মাঝে শুধু ২০১০ সালে ইমরুলের সঙ্গে গড়া ৭৯ রানের জুটি পর দলও চার শ পেরিয়েছিল। এই একটি ইনিংস বাদ দিলে নিউজিল্যান্ডে দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার পর তামিমের মুখে খুব কমই হাসি ফুটেছে।

আজ যেমন সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরও তামিমের খারাপ লেগেছে। তাঁর সেঞ্চুরির ওপর ভরে করে দল যে ভালো রান তুলতে পারেনি। প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মন খারাপের কথাই শোনালেন বাংলাদেশের এই ওপেনার, ‘খারাপ তো অবশ্যই লাগে। সত্যি বলতে এই ধরনের কন্ডিশনে এমন একটা সূচনা পাব, এত ভালোভাবে ইনিংস শুরু করতে পারব এটা আমাদের জন্য একটা স্বপ্নের ব্যাপার। সাধারণত, প্রথম দিন, সবুজ উইকেট, এর আগে এমন অবস্থায় প্রথমে ২-৩ উইকেট পড়ে যেত। আজকে তা হয়নি। কিন্তু এত সুন্দর শুরু করেও ধরে রাখতে না পারা হতাশাজনক।’

হ্যামিল্টনে আজ প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসকে একটু ফিরে দেখা যাক। তামিম-সাদমান ৫৭ রান তোলার পর দল ২৩৪ রানে অলআউট। প্রথম সেশনে ২ উইকেট পরলেও পরের সেশনে পরেছে ৫ উইকেট। তামিম একা করেছেন ১২৬, বাকিরা সবাই মিলে ১০৮! কন্ডিশন কঠিন ছিল? তা দেখা গেল কোথায়? উইকেটে একটু ঘাস ছিল, কিন্তু বলে মুভমেন্ট তেমন ছিল না, বাউন্সও সেভাবে অসমান হয়নি। শর্ট বলে উইকেট দিয়ে ব্যাটসম্যানেরাই বরং তুলনামূলক সহজ কন্ডিশনকে কঠিন বানিয়েছে। তাতে প্রথম দিন শেষে নিউজিল্যান্ড এই টেস্টে এগিয়ে গেছে। বিনা উইকেটে ৮৬ রান তুলেছে দলটি।

তামিম মনে করেন, নিউজিল্যান্ড ভালো বল করলেও সতীর্থরা ভালো ডেলিভারিতে আউট হয়নি। উইকেট নিয়েও তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। বরং ‘ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো’-ই বলেছেন তিনি, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই, দু-একটা বাউন্ডারি হয়ে যায়, ওরকম কিছু মনে হয়নি।’ তাহলে? তামিমের সতীর্থদের সময়ে উইকেট কী হঠাৎ করেই ‘বধ্যভূমি’ হয়ে গেল! তামিম তা মনে করছেন না। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘ হ্যাঁ, ওরা ভালো বল করছিল। কিন্তু আপনি যদি আমাদের ডিসমিসালগুলো দেখেন, খুব ভালো ডেলিভারিতে কিন্তু আমরা আউট হইনি। আমরা ছোট ছোট সময়ে ভালো ব্যাট করেছি। কিন্তু ভুল সময়ে উইকেট দিয়েছি।’

বাংলাদেশের গোটা ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি মাত্র দুটি। টপ অর্ডারে এ দুটি জুটি-ই তামিমের সঙ্গে। নিল ওয়াগনারের শরীর ধেয়ে করা শর্ট বলে কুলিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাটসম্যানেরা। কিন্তু তামিমের পাল্টা যুক্তি, ওয়াগনারের এমন বোলিং নতুন কিছু না। আজকে থেকে না, পাঁচ বছর ধরেই সে এমন বল (শরীর তাক করে শর্ট বল) করছে। তামিম কী বোঝাতে চাইলেন, দলের সবাই যেহেতু ওয়াগনারের বল সমন্ধে জানে তারপরও তাঁকে ৫ উইকেট দেওয়া কেন?

কথাটা সরাসরি না বললেও ভুলটা ঠিকই ধরিয়ে দিয়েছেন তামিম। আর পুরো দিন ব্যাট করতে না পারার আক্ষেপও ঝরেছে তাঁর কন্ঠে, ‘আমার কাছে মনে হয় ভালো করতে করতে ভুল করেছি। কাল পরশু সবচেয়ে ভালো দিন থাকবে উইকেটের (ব্যাটিংয়ের জন্য)। তাই আজ পুরোটা সময় ব্যাট করা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ছোট ছোট সময় ভালো ব্যাট করেছি কিন্তু সব মিলিয়ে নয়। এত সুন্দর শুরু করেও পুরোটা ব্যাট করতে না পারায় হতাশ।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত