রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কেমিক্যালের উৎস সরাতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার: আইজিপি

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:  ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল বা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের উৎস সরাতে সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, এ ধরনের আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যালের সব ধরনের উৎস সরিয়ে ফেলা উচিত। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কেমিক্যালের এসব উৎস অপসারণে সিটি করপোরেশনসহ আরও বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। সবাইকে নিয়ে সমন্বিত একটি উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর চকবাজারে কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘এটা তো কেমিক্যাল গোডাউন। রাসায়নিক পদার্থ ছিল। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। ওই ভবনে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়েও পড়ে। আশপাশেও তা ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এখন পুরো ভবন খুঁজে দেখা হচ্ছে আর কোনো মৃতদেহ আছে কি না। আমরা মনে করছি, আরও কয়েকজনের মৃতদেহ থাকতে পারে। পুরো ভবনটি খুঁজে দেখার পর তা বোঝা যাবে।’

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, একদিকে তো সেখানে রাসায়নিক গুদাম, তার ওপর ওই ভবনের সামনে কয়েকটি গাড়ি ছিল, যেগুলো গ্যাসে চলে। এই আগুনের কারণে গাড়িগুলো বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি গাড়ি ছিল, যার ভেতর ছিল অনেকগুলো সিলিন্ডার। ওই সিলিন্ডার হয়তো আশপাশের বাড়িতে ও হোটেলে গ্যাস সরবরাহের জন্য ছিল। ওই গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এ কারণে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যায়। আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে। এ ছাড়া তিনটি হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর থেকে পানি দেওয়া হয় আগুন নেভানোর জন্য।

আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গোডাউনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ ধরনের আবাসিক এলাকা, জনবহুল এলাকার মধ্যে কেমিক্যাল গোডাউন থাকা উচিত না। এখনই সময় এগুলো সরিয়ে নেওয়ার।’ এ সময় সাংবাদিকেরা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখবে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলোর ক্ষেত্রে অনেকগুলো পক্ষ কাজ করে। পুলিশ তো অবশ্যই ভূমিকা রাখবে, কাজ করবে। তবে তার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সরকারের যে অন্যান্য দপ্তর আছে, যারা এগুলো মনিটর করে, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরানোর। এগুলো সরানোর কাজ এখনই শুরু করা উচিত।

এসময় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান আইজিপি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সবাইকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে ছুড়িহাট্টা জামে মসজিদের পাশে ওয়াহেদ ম্যানসন নামে একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। এর পাশের আরও একটি চারতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আরও তিনটি ভবনে ছড়ায় আগুন।

ওয়াহেদ ম্যানসনের পেছনেই রয়েছে বড় কাটারা কমিউনিটি সেন্টার। সেই কমিউনিটি সেন্টার এবং এর পূর্ব পাশের প্লাস্টিক কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাত সোয়া ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ। এরপর আবারও বাড়তে শুরু করে আগুন। নতুন করে তিনটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪টার দিকে ফায়ারকর্মীদের সহায়তা দিতে যোগ দেয় বিমান বাহিনীর সদস্যরা। আগুনের ভয়াবহতা কমে আসার পর শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। ওয়াহেদ ম্যানসনের প্রতিটি তলা থেকে বের করা হচ্ছে পুড়ে যাওয়া মরদেহ।

এ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। আরও অর্ধশতাধিক দগ্ধ ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত