শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

‘দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রায় প্রত্যেকেই নির্বাচিত হবেন’

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডডটকম:  অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন জৌলুস হারাতে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। এতে এই নির্বাচন জৌলুস হারাতে বসেছে। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। এই সত্যকে মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় পর্যায়ে নিয়োগ করা রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এই কর্মশালায় এসে আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে, আমরা নির্বাচন কেন করি? এর উত্তর অত্যন্ত সহজ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। গণতন্ত্র হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের বেছে নেওয়া এবং তাদের দিয়ে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে দেশ পরিচালনা করা।’

উপজেলা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় প্রত্যেকেই নির্বাচিত হবেন এবং ওই পদে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য শব্দ দুটির উজ্জ্বলতা থাকে না। এরপরও আনুষ্ঠানিকতার কারণে নির্বাচন করে যেতে হয়। আমি মনে করি, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নির্বাচনের মৌলিক কাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।‘

জাতীয় পর্যায়ের মতো স্থানীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র একটি সুনির্দিষ্ট অবকাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বিশেষ কোনো আদেশ-নির্দেশে যদি সেই অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আজ্ঞাবহ হয়ে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন মাহবুব তালুকদার।

‘যেহেতু বর্তমান উপজেলা পরিষদ যেভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেভাবে হচ্ছে না। আমি আগেও বলেছি, উপজেলা পরিষদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী না হলে এ নির্বাচনও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে’-মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনে যারা ভোটার, বিশেষত উপজেলা নির্বাচনে যারা ভোটার, তাদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলেও দাবি করেন এই কমিশনার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এবং কার্যত ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান করা না গেলে তারা ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত হন না।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এবার নির্বাচনের ব্যবহারিক দিক নিয়ে কথা বলতে চাই। তবে এই ব্যবহারিক বিষয়ের কথা অনেকটা চর্বিতচর্বন মনে হতে পারে। এ ধরনের কর্মশালায় আমরা সাধারণত যে কথাগুলো বলে থাকি, তা হলো – নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্বপালনের কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না, আমরা প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন করতে চাই না, নির্বাচনে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে – মোটামুটি এসব কথাই ঘুরে ফিরে বলে থাকি। তবু কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে হয়।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত