শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

আইএসে যোগ দেয়া সেই শামিমাকে ফিরতে বাধা যুক্তরাজ্যের

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম:  জিহাদে যোগ দিতে ২০১৫ সালে দুই বান্ধবী খাদিজা সুলতানা ও আমিরা আব্বাসের সঙ্গে লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে পালিয়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন শামিমা বেগম (১৯)। তবে এখন তিনি নিজ দেশে ফিরতে চান।

কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ বলেছেন- জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি দেয়া শামিমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে দেয়া হবে না।

দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজিদ জাভেদ বলেন, ১৯ বছরের শামিমা বেগম যদি ফিরে আসেন, তবে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। মনে রাখতে হবে যিনি আইএসে যোগ দিতে ব্রিটেন ত্যাগ করেছিলেন, তিনি আমাদের দেশকে পুরোপুরি ঘৃণা করেন।

এখন যদি তিনি ফিরতেই চান, তবে তাকে তদন্ত ও সম্ভাব্য বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ধরনের নাগরিক দেশের জন্য গুরুতর হুমকি। তাই এসব নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাজ্য, বলেন তিনি।

লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার শামিমা জানান, ২০১৫ সালে দুই বান্ধবী খাদিজা সুলতানা ও আমিরা আব্বাসের সঙ্গে পালিয়ে সিরিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যোগ দেন।

সেখানে তার চোখের সামনে মারা গেছে নিজের গর্ভজাত দুটি সন্তান। মারা গেছেন তার সঙ্গে যাওয়া দুই বান্ধবীর একজন।

অন্যজন কোথায় সে তথ্য দিতে পারেননি তিনি। এখন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছেন শামিমা বেগম। তিনি আবার নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান।

সেখানে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। যেন তার সন্তান সেখানে জন্ম নিতে পারে।

তবে আইএসে যোগ দেয়া নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলে প্রতিবেদনে জানা যায়।

এতে শামিমা বলেছেন, শিরশ্ছেদের অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। কিন্তু তাতে তিনি কোনো ভয় পাননি।

সিরিয়ার আল হাওল শরণার্থী শিবিরে এখন অবস্থান করছেন তিনি। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ওই সন্তানের জন্যই তিনি ফিরতে চান ব্রিটেনে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন শামিমা বেগম। তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী আমিরা আব্বাস। তারও বয়স ছিল তখন ১৫ বছর।

আর তা ছাড়া খাদিজা সুলতানা নামের ১৬ বছর বয়সী আরেক বান্ধবীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তারা তিনজনই লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির শিক্ষার্থী ছিলেন।

তারা তিনজন যুক্তরাজ্যের গেটওয়ে বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তুরস্কে পৌঁছান। তুরস্কে পৌঁছানোর পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিরিয়ায় যান।

সিরিয়ার শহর রাক্কায় কিছু দিন অবস্থানের পরে ২৭ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিকের সঙ্গে শামিমার বিয়ে হয়। ওই ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

বিয়ের পর ওই ব্যক্তির সঙ্গেই ছিলেন শামিমা। সেখান থেকে সিরিয়ান সেনাবাহিনী তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নেই তার। সিরিয়ায় ওই এলাকাটি ছিল ইসলামিক স্টেট নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ ঘাঁটি।

এর আগে ২০১৪ সালে শামিমার আরও একজন বান্ধবী পূর্ব লন্ডন ছেড়েছিলেন। তিনিও গিয়েছিলেন সিরিয়ায়। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে যুক্ত হতে তারা তিন বান্ধবী ২০১৫ সালে লন্ডন ছাড়েন।

অন্যদিকে ২০১৬ সালের মে মাসে রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যে, খাদিজা সুলতানা সিরিয়ার রাকায় বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ওই রাকা হলো আইএসের শক্ত ঘাঁটি।

খাদিজার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন শামিমা। তা সত্ত্বেও অন্যরা সিরিয়ার বাঘুজ এলাকার যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ওই সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিজেদের ইচ্ছায়, সিঙ্গেল নারী হিসেবে। কারণ, তখন তাদের স্বামীরা নিহত হয়েছেন।

প্রতিবদনের একটি অংশে দাবি করা হয়, পালিয়ে যাওয়া ওই তিন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই বিয়ে করেছিলেন আইএসের বিদেশি একজন যোদ্ধাকে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত