বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ডাকসু নির্বাচনে ‘নতুন শক্তি’ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম:  দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১১ মার্চ এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দুই দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ডাকসু নির্বাচনে আসার ঘোষণার মাধ্যমে এবার নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গড়ে ওঠা সংগঠন  ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ একাধিক নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবর শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বাইরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে তারা কেমন প্রভাব বিস্তার করবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ২০ ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা মিশ্র মন্তব্য প্রদান করেছেন। কেউ বলেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা নির্বাচনে একটি বড় প্রভাব রাখবে আবার কেউ কেউ বলেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলন আর ডাকসু নির্বাচন দুটি ভিন্ন বিষয়।

সাইদুল ইসলামে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের এক ছাত্র বলেন, ‘কোটার নেতারা যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে সেটি অবশ্যই একটি বড় বিষয়। পূর্বে তারা কোটার মত বৈষ্যমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আর সেই আন্দোলন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। সুতরাং সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইবে ডাকসুতে তাদের প্রতিনিধি থাকুক।’

তবে সাইফুল ইসলাম নামে একই বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে কোটার নেতারা কোনো ফ্যাক্টর নয়। ডাকসু আর কোটা সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন বিষয়। ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের একচ্ছত্র অধিকারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকে। তারা ক্ষমতাসীনদের বাইরে যেতে পারবে না।’

তানিয়া আক্তার নামে একজন বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে কোটা সংস্কারের নেতারা অবশ্যই একটি বড় বিষয়। কারণ সাধারণ ছাত্রদের কাছে তাদের একটা যৌক্তিক গ্রহণযোগ্যতা ছিলো। সেই রেশটা এখনো আছে বলেই মনে হচ্ছে।’

তবে ছাত্রলীগ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন। সেটা শেষ হয়েছে। কোটার নেতা বলে এখন আর কিছু নেই। যদিও কোটার নেতাদের নির্বাচনে আসার ঘোষণায় তারা নড়েচড়ে বসেছে।

কোটার নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন  বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। যারা কোটার আন্দোলনকারী তারা এখন চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আছে। আর তথাকথিত নেতা বলে গণমাধ্যম যাদের সায় দিয়ে যাচ্ছে তারা তাদের নিজেদের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার গড়ার কাজে ব্যস্ত আছে।’

এ সময় তিনি কোটার নেতাদের পেছনে মৌলবাদীদের ফান্ডিং আছে বলে অভিযোগ করেন। তবে সমান সুযোগ পেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারাই বিজয়ী হবেন বলে দাবি করছেন তারা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রদের দাবি নিয়ে আমাদের প্লাটফর্ম গঠিত হয়েছিল। আমরা কেউ নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। তবে যেহেতু সাধারণ ছাত্রদের দাবি থেকে এসেছে ডাকসু নির্বাচন। এ কারণে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাকসু নির্বাচন করার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনেক ছাত্রদের সঙ্গে আমার সংযোগ আছে। আত্মবিশ্বাস, মেজরিটি ছা্ত্র আমাদের সমর্থন দেবে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন দেবে না। কারণ তারা সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে দাঁড়ায় না। ওপর থেকে যেভাবে আসে সেভাবে করে। সাধারণের কাতারে এসে কখন । আমরা পেরেছি যদি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্ট হয় আর ভোট দিতে পারে নিরঙ্কুশ।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ছাত্রদের মধ্যে সাধারণ ছাত্রদের মাঝে সাধারণ ছাত্র পরিষদ একটি জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কোটা বৈষম্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। এসব কারণে সাধারণ ছাত্রদের আমাদেরও আস্থা রয়েছে। অনেকে হলে থাকার কারণে আমাদের জন্য প্রকাশ্যে নামতে । সাধারণ ছাত্ররা ব্যাপকভাবে আপনাদর সঙ্গে থাকবে। যদি প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কিত ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

Print Friendly, PDF & Email

মতামত