রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল রিপনের: র‌্যাব

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম:  হলি আর্টিজান মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর পর কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার নতুন করে পরিকল্পনা করেছিল বাইরে থাকা জঙ্গি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে আবু মুহাজির।

আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গ্রেপ্তারৃত রিপনের স্বীকারোক্তির কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এর আগে শনিবার রাতে গাজীপুরের বোটবাজারের একটি বাস থেকে হলি আর্টিজান হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মামুনুর রশীদ রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা রিপনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ত্রিশালের মতো জঙ্গি ছিনতাই পরিকল্পনা করেছিল তারা। ত্রিশালের মতো আরকেটি ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গিদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল তারা। মূলত হলি আর্টিজান হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। জেএমবির আমির আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই আওয়ালের ভাগ্নে হওয়ায় রিপনে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সংগঠনে।’

রিপনের বরাত দিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি নেতা তামীম চৌধুরীর সঙ্গে সারোয়ার জাহানের একটি বৈঠকের সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত করা হয় ২০১৫ সালে। ওই সমঝোতার ভিত্তিতে সারোয়ার জাহানকে আমির নির্বাচিত করা হয়। তার সাংগঠনিক নাম দেওয়া হয় শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। ওই বৈঠকে জেএমবি সদস্য সাদ্দাম ওরফে কামাল, শরিফুল ওরফে রাহাত ও রিপনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। তার মধ্যে মামুনুর রশীদ রিপন শুরা সদস্য নির্বাচিত হয়।’

‘সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রিপনের নেতৃত্বে একটি দল ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের জন্য ভারতে যান। হোলি আর্টিজানে হামলার আগে মামুনুর ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানের হাতে তুলে দেন’ বলেও জবানবন্দিতে রিপন স্বীকার করেছেন বলে জানান মুফতি মাহমুদ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ৬ জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ১ জন রেস্তোরাঁকর্মী।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত