রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

১৩ বছর বয়স থেকে প্রেম করছি: দীপিকা পাড়ুকোন

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম:

এশিয়ার ৫০ জন আবেদনময়ী নারীর মধ্যে আপনি শীর্ষে। আপনার কাছে এর কোনো অর্থ আছে?
সত্যি বলতে, নেই। আমার নামটা ওখানে দেখে আমি খুশি হইনি, তা নয়। কিন্তু এই তকমা দিয়ে আমাকে যাচাই করা যাবে না। কাম ও নাম বিষয় দুটোকে এক করে ফেললে চলবে না। প্রথমেই আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে এটা একটা ভুল ট্যাগ। ব্যাপারটা কিন্তু কেবলই শারীরিক নয়; মানসিক, আত্মিক ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এই বিষয়গুলোর সমন্বয়ে আমার নামটি যদি উচ্চারিত হয়, তাহলে ভালো। তবে এটা কিন্তু আমার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নয়।

সম্প্রতি আপনি ভারতের চতুর্থ শীর্ষ রোজগার করা তারকা হয়েছেন।
এটা নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত; বিশেষ করে পারিশ্রমিক–বৈষম্য নিয়ে যখন কথা হয়। আমি আনন্দিত যে, বিষয়টি সামনে এসেছে। আমি এটা নিয়ে গর্বিত, কারণ আমি এটি অর্জন করেছি, চেয়ে নিইনি। বছরের পর বছর কাজের মাধ্যমে আমাকে এখানে পৌঁছাতে হয়েছে। চাইলেও অকারণে কোনো বোকাও আপনাকে এই টাকা দেবে না। এখনো নারী ও পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের সম্মানী-বৈষম্য রয়েছে, এ নিয়ে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। কিন্তু এটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য একটি মুহূর্ত।

আপনি আপনার অনেক পুরুষ সহকর্মীর থেকেও বেশি আয় করেন। এটা কি অন্য নারীদের আত্মবিশ্বাস জোগায়?
জোগায়। অন্যরা কত নেয় জানা সত্ত্বেও আমি প্রায়ই ইচ্ছে করে টাকা বেশি নিই। ‘না’ বলার ক্ষেত্রে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সেটা সিনেমা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যদূত বা কোথাও উপস্থিত হওয়া—যা-ই হোক না কেন। আমি এটা আমার নিজের জন্য করি, তা নয়। বেশি নিই, কারণ আমি একটা প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দিতে চেয়েছি। কাউকে এটা করতেই হতো। আমি করতে পেরে আনন্দিত।

এ কারণেই গত দুই বছর কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি?
না। সিনেমার ক্ষেত্রে আমি সব সময়ই দেখি, মন কী চায়। সৃজনশীল কিছু না হলে কাজ করতে ইচ্ছে করে না। একবার পরপর চারটা ছবি করছি মানে যে আমাকে বছরে চারটি করে ছবি করতে হবে, তা নয়। করছি, কারণ প্রতিটি ছবি আলাদা এবং সৃজনশীলতার দিক থেকেও রোমাঞ্চকর।

ধরেন দারুণ কিছু, তাহলে টাকা কম নেবেন?
দেখতে হবে। বিষয়টি নির্ভর করবে সেখানে পুরুষ শিল্পী কত নিচ্ছেন, সেটার ওপর। সবাই জানে যে কে কত নেন এবং কেন নেন। সেসব ক্ষেত্রে আবার গোঁ ধরে বসে থাকি না। আমি এ বিষয়েও সচেতন যে খান সাহেবদের তুলনায় আমি কতটা পেতে পারি। এমনকি রণবীর সিং, রণবীর কাপুর ও বরুণ ধাওয়ানদের মতো নতুনদের বিষয়েও আমি সচেতন। আমি আমার অবস্থানটা বুঝি। আমি প্রযোজনার খরচ সম্পর্কেও অবগত। আমি এক টাকাও চাইব না, যদি টাকাটা ছবির পেছনে খরচ করা হয়। কিন্তু আমি নিজের অংশটুকু ছাড়ব না, যদি পুরুষ শিল্পীকে টাকা বেশি দেওয়ার জন্য আমাকে কেউ কম দিতে চায়; এমনকি যদি বলেন যে রণবীর সিংকে ছবিতে নেব, তাঁকে অনেকগুলো টাকা দিতে হবে, আপনি বেশি নেবেন না, তাহলে আমি শুনব না। সে ক্ষেত্রে আমাকেও সমান সম্মানী দিতে হবে।

গত দুই বছর মনের মতো চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করতে খারাপ লেগেছিল?
একটু লেগেছিল। কিন্তু আমি নিজেকে ঢেলে সাজানোর খানিকটা সময় পেয়েছিলাম। পুরো সময়টিই দিয়েছিলাম মেঘনা গুলজারের ছবির (অ্যাসিড–সন্ত্রাসের শিকার লক্ষ্মী আগারওয়ালের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র) জন্য। আসলে নিজের কাজের জন্য হলেও জীবনটাকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই আমি কিন্তু যা করা প্রয়োজন, সবকিছু করেছি। পছন্দের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, বিয়ে করেছি, ভ্রমণে গিয়েছি, ঘুমিয়েছি। আমি নিজেকে গড়ে তুলেছি। মানুষ হিসেবে, সর্বোপরি শিল্পী হিসেবে এটা আমাদের জন্য জরুরি। নিজেকে সময় দিতে হবে। আমরা তো সিনেমার কাঁচামাল। পশ্চিমে ব্যাপারগুলো এ রকম নয়। তারা দুই বা তিন বছরে একটি করে ছবি করে। আমাদের মনস্তত্ত্ব বদলাতে হবে।

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

মেঘনা গুলজারের ছবিটা আপনাকে রোমাঞ্চিত করল কেন?
ছবিটার সঙ্গে মানুষের যোগ আছে। আমি অনেকবার লক্ষ্মী আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছি। আমার টিম আমাকে মেঘনার ছবি সম্পর্কে বলেছিল। মেঘনা নিশ্চিত ভেবেছিলেন যে আমি রাজি হব না। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সে বিশ্বাসই করতে পারেনি আমি রাজি হয়ে যাব। সে প্রথম দৃশ্যটা যখন আমাকে বলল, আমি তখন রাজি হয়ে গেলাম। আমি গল্প বুঝে ফেলেছিলাম। এটা এমন একটা গল্প, যেটা বলতে পারতে হবে। আমি জানি, মেঘনা এর সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত। পরিচালকের সঙ্গে শিল্পীকেও একাত্ম হতে হবে। এমনকি কলাকুশলীদেরও ছবিটার ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। মেঘনা প্রথম দৃশ্যের বর্ণনা করার পর আমার টিম বলল, পরে জানাচ্ছি। কিন্তু আমি বলেছিলাম, আমি ছবিটা করছি। বিষয়টি এতটাই সহজ ছিল। আমরা অযথাই প্রক্রিয়াগুলোকে জটিল করে তুলি। আমি সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি। ছবিটা কেন করছি, সে ব্যাপারে আমি সৎ ছিলাম। নির্মাতাকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। যদি কাজের সঙ্গে যুক্ত না হই, তাহলে শুধু শুধু তারিখ নিয়ে ঝুলিয়ে রাখব কেন?

সুপারহিরোর চরিত্রে কাজ করার কথা শোনা যাচ্ছিল…
হ্যাঁ, করছি। আশা করি কাজটা হবে। অবশ্য এখনো কোনো চিত্রনাট্য হয়নি। আমি আর আমার এক বন্ধু সেটা তৈরি করছি। বিমানে বসে বসে তাঁর সঙ্গে কাজটা নিয়ে কথা বলছিলাম। সুপারহিরোর একটা ছবি করব—এটা ঠিক আছে, কিন্তু জিনিসটা এখনো অঙ্কুরেই রয়েছে।

আপনি তো প্রযোজক হয়ে গেলেন। কিসের তাড়নায়?
ছবির বিষয়বস্তু। আমি এমন কাজই করতে চাই, যেটা হয় একটা প্ল্যাটফর্ম হবে, নয়তো কোনো কিছুকে তুলে ধরবে কিংবা বক্তব্য থাকবে। লক্ষ্মী আগারওয়ালের কাহিনিটা সে রকম। জানি না পরের বার কী প্রযোজনায় যাব। আমার তো কোনো প্রযোজনা সংস্থাও নেই।

সংস্থা হলে নাম কী দেবেন?
‘কা’। মিসরীয় ভাষায় এর মানে ‘আত্মা’। কোনো কিছুর মূল অংশ।

বিয়েতে ফিরে যাই। অভিনেত্রীর বৈবাহিক অবস্থা ছবির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে?
আশা করি পড়বে। সবাই বিবাহিত। তাতে কি ইন্ডাস্ট্রি থেমে গেছে। তার মানে কি আমাদের কোনো মেয়ে বিয়ে করতে বাকি আছে? আমার মনে হয়, এটা বক্স অফিস যতটা না চাপিয়ে দেয়, তার থেকে যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কোনো অভিনয়শিল্পী যদি বিয়ের পর কাজ না করে, সেটা তার সিদ্ধান্ত। যদি কেউ কাজ না করে, বুঝতে হবে সে ক্লান্ত। জীবনটা যাপন করতে চায় এবং পরিবারকে সময় দিতে চায়। কিন্তু আমি নিশ্চিত, নারীরা ও রকম করে ভাবে না। যখন আপনি অমন ভাববেন না, ব্যাপারগুলো সে রকম হবে না।

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

বিয়ের পরে আপনার জীবনে কোনো পরিবর্তন এসেছে?
আমি অনেক বেশি বৈষয়িক হয়েছি। নিরাপদ বোধ করি। যখন আপনি একটা সম্পর্কের মধ্যে থাকবেন, তখন একটা অসহায়ত্ব কাজ করবে আপনার ভেতরে; যত দিনই প্রেম করেন না কেন। আমার ধারণা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড শব্দগুলো অর্থহীন। ক্ষেত্রবিশেষে বিয়ের তুলনায় এগুলোর কোনো ভার নেই। এখন আমরা যখন একে অন্যের দিকে তাকাই, সেখানে দায়িত্ববোধের ব্যাপার থাকে।

এটা কি কেবলই ভাবনার বদল নয়?
বিয়ের দিন রণবীর যেভাবে আমার হাত ধরেছিল, সেটা ছিল অন্য যেকোনো সময়ের থেকে আলাদা। কিংবা হতে পারে বিষয়টি আমার মাথার মধ্যে ঘটছে। সেখানে একটা দায়িত্ববোধের ব্যাপার ছিল, যেটা আমি ব্যাখ্যা করতে পারব না। এখন যা কিছু করি, ‘আমরা’ করি। তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতা ভুলে যাবেন। কিন্তু ভালো লাগছে যে আমি একই ঘরে একজনের সঙ্গে থাকছি। এমনকি ছবির প্রচারণার কাজে সে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, কিন্তু রাতে ঠিকই আমার কাছে ফিরছে। ভোর চারটায় হলেও তো আসছে। সম্পর্কের মধ্যে থাকলে সেটা সম্ভব ছিল না। আমরা কখনোই লিভ টুগেদার করতে চাইনি। দেখেন, আমরা একে অন্যকে বিয়ে করেছি না করিনি? সেই দিক থেকে হয়তো আমরা সেকেলে। প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে আমরা একত্রে ছিলাম, বেড়াতে গিয়েছি, ছুটি কাটিয়েছি একত্রে, কিন্তু আবার যার যার বাড়িতে ফিরতে হয়েছে। আমরা পরিষ্কার ছিলাম যে আমাদের বিয়ের পরে একত্রে থাকতে হবে। এখন আমরা একে অন্যের খোঁজ-খবর নিতে পারি, দেখতে পারি কে কী করছি। রাতে সে কী খাবে (হেসে) …সব।

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

একসঙ্গে থাকার বিষয়টি কেমন, একটু বিস্তারিত বলবেন?
একত্রে থাকাটা খুবই নান্দনিক। আমি নিশ্চিত নিন্দুকেরা বলবে কেবল তো বিয়ে করেছ, ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করো, তারপর বুঝবে কী হয়। এখনকার কথা বলি, এটাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। আমার একত্রে থাকতে ভালো লাগছে, কারণ কাজের জন্য আমি অনেক কম বয়সে ঘর ছেড়েছিলাম। অনেক বন্ধু বলেছে, তারা অত জলদি বাড়ি থেকে বেরোতে চায় না। আমি ছিলাম উল্টো। বরং পরিবারকে বলেছিলাম, আমাকে যেতে হবে। যখন প্রেম করছিলাম, ওর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি বা আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা ভালো সময় পার করতে চেয়েছি, যার সঙ্গে কথা বলব, নাশতা করব, সেটা মনের মতো কেউ হওয়া চাই। অথচ ১৫ বছর ধরে আমি একা।

রণবীর ফিল্মফেয়ারের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি বিয়ে করতে প্রস্তুত ছিলেন। আপনি কেন ১০ বছর সময় নিলেন?
এটা তো তাঁর ওপর ছিল না। বিষয়টি হচ্ছে আমি প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত কি না। আমার আগেও কয়েকটি সম্পর্ক ছিল এবং কয়েকবার মন ভেঙেছে। যখন রণবীরের সঙ্গে দেখা হলো, এলোমেলো অবস্থায় ছিলাম। সম্পর্কহীন অবস্থায় ছিলাম। কিছুদিনের জন্য একা থাকতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর খুচরা প্রেম করব না। ১৩ বছর বয়স থেকে প্রেম করছি, বিয়ে করে ফেলেছি, এখন সেসব বলাই যায়। কোনোটা এক, কোনোটা দুই, আবার কোনোটা তিন বছর টিকেছিল। কাউকে ভালো লাগলে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়। ২০১২ সালে আমি যে সম্পর্কটি থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম, মনে হচ্ছিল আমি শেষ। আমাকে এই খুচরা প্রেম বাদ দিতে হবে। আমি আর কাউকে জবাবদিহি করতে পারছিলাম না। ২০১২ সালে যখন রণবীরের সঙ্গে দেখা হলো, তাঁকে বললাম, আমার মনে হয় আমাদের দুজনের কোথাও একটা যোগসূত্র রয়েছে। আমি তোমাকে পছন্দ করি আর ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখতে চাই না। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিতে যাব না। আমি যদি আর কারও সঙ্গে সম্পৃক্ত হই, সেটা আমি চালিয়ে যাব। কিন্তু কিছুই হলো না। আমি আর কিছুই করতে পারলাম না। এমনকি আবেগের বশে এই সম্পর্কেও উতলা হয়ে যাইনি। কিন্তু ছয় মাস আগের কথা বলতে পারি, নিজেকে আর সামলে রাখতে পারিনি। তখন ভাবছিলাম, বিয়ে করে ফেলব নাকি? তখন আর অনিশ্চয়তা ছিল না। ছয় বছরের সম্পর্ক, কত চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু বিচ্ছিন্ন হইনি। কোনো বড় ধরনের ঝামেলা হয়নি। আমরা ঝগড়া করেছি। কিন্তু নিজেদের সঙ্গে জড়িয়েই ছিলাম। আমরা বাগদান করেছিলাম চার বছর আগে।

বলেন কী!
কেউ জানে না ব্যাপারটা। চার বছর আগে আমাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। আমাদের দুজনের মা-বাবা ও বোনেরা ছাড়া বিষয়টি আর কেউ জানত না।

বলছিলেন আপনার অনেকবার বিশ্বাস ভেঙেছে। এতে কি ঘৃণা তৈরি হয়নি?
হয়েছে। কিন্তু বিয়ে সেটাকে বদলে দিয়েছে। যখন কাউকে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে বারবার মন ভাঙবে, সেটা জীবনের ওপর প্রভাব ফেলবেই। এটা পরবর্তী সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রণবীরের জন্য এসব সামলানো কষ্টকর ছিল। আমরা যে এসব পরিস্থিতি থেকে উতরে গেছি, সেটা কেবল তাঁর কারণে। ভালোবাসায় আস্থা হারাইনি, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ছিল আমার। সত্যিকারের ভালোবাসা পেলেও সন্দেহ হতো। কারণ, আবারও যদি আগের ঘটনা ঘটে, আপনি সহ্য করতে পারবেন না। প্রত্যেকটা সম্পর্ক ও মানুষ যে ভিন্ন, সেটা আমাকে বোঝাতে রণবীরের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফিল্মফেয়ার

আপনারা দুজন সৃজনশীলভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করেন কীভাবে?
আমরা একে অন্যের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিই না। আমরা নিজেদের কাজ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সে তার সিদ্ধান্ত নেয়, আমি আমারটা। শিল্পী হিসেবে আমরা ভিন্ন। আমাদের পর্দায় উপস্থিতিটাও ভিন্ন। সে কোনো সিনেমা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে আমার পরামর্শ নেয়। যত বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কাজ করুক না কেন, স্ত্রী হিসেবে আমার বিষয়টিও সে মাথায় রাখে।

রিমোট কন্ট্রোল কার হাতে থাকে?
আমার হাতে। জানি, জিজ্ঞেস করলে সেও একই কথা বলবে।

আপনি তাঁর ফোনের পাসওয়ার্ড জানেন?
উউউম, না।

মানে আপনি তাঁর ফোন ঘাঁটেন না?
দরকার হয় না।

রণবীর বলেছিলেন, বিয়ের সবকিছু আপনিই করেছিলেন। বিয়ের কথা প্রথম ভেবেছিলেন কবে?
যখন পাঁচ বছরের শিশু, তখন ভেবেছি। সব মেয়েরই স্বপ্ন এটা। কিন্তু আমি তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই ‘পদ্মাবত’ ছবিতে কাজ করার পর। আমরা বুঝতে পারছিলাম, এ রকম কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কেবল সময়ের জন্য অপেক্ষা। যখন ছবিটা মুক্তি পেল, মনে হলো সময় হয়েছে। সে প্রস্তুতই ছিল, কিন্তু বেশ কিছু কাজের ব্যাপারে কথা দিয়ে ফেলেছিল। সময় বের করতে পারবে কি না, ঠিক ছিল না। কিন্তু সেও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে।

রণবীরের পরিবারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?
মজার। তার বাবার কাছে আমি মেয়ের মতো। কিন্তু তার মায়ের কাছে আমি বন্ধু। মেয়েও বটে। আমি তো তাঁর কাছে আমার একেবারে গোপন কথাটিও বলতে পারি। বিষয়টা বোঝাতে যাওয়া বোকামি হয়ে যাবে। মানে, তার কাছে আমার লুকোছাপার কিছু নেই। তাঁরা আমার বাবা-মায়ের মতো এখন, পরিবারের অংশ। আংকেল খুবই আবেগপ্রবণ, খুব সহজেই ভেঙে পড়েন। মা হচ্ছেন আসল মজার মানুষ। সকাল আটটা পর্যন্ত পার্টি চললেও তিনি থাকতে পারেন।

আপনার বিয়ের একটা ঘটনা বলেন, যেটা কেউ জানে না।
লোকে বলেছে, আমাদের বিয়ের ছবিগুলো জাদুর মতো। বিয়েটা আসলেই জাদুর মতো ছিল। কোথাও এতটুকু ছন্দপতন হয়নি। ইতালিতে সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। নভেম্বরের ১৩ তারিখ সকালে যখনই আমার হাতে মেহেদি পরানো শেষ হলো, অমনি সূর্য উঠে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার নীল আকাশ।

বৃষ্টির কারণে উদ্বিগ্ন ছিলেন?
না। কারণ, আমরা যখন কোনো কিছু বিশ্বাস করি, আমাদের ভেতরে একধরনের শক্তি তৈরি হয়। নভেম্বরের ১২ তারিখ রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাতে আমরা স্বাভাবিকভাবেই খেতে বসেছি। আবহাওয়া নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না। আমাদের পরিচ্ছন্ন আবহাওয়া দরকার ছিল ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর। আমরা সেটা পেয়েছি। এমনকি ১৬ তারিখে যখন অতিথিরা বিদায় নিচ্ছিলেন, সেদিন ঠিকই বৃষ্টি হচ্ছিল।

আচ্ছা, আপনাকে বলা রণবীরের সবচেয়ে চমৎকার কথাটা কী ছিল?
অনেক কথাই বলেছে। সত্যি বলতে, প্রশংসা করতে সে কার্পণ্য করে না। এটা তাকে ভালোবাসার অন্যতম প্রধান কারণ। বছর কয়েক আগে আমি যখন তার চেয়ে বেশি রোজগার করছিলাম, এ নিয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়াই ছিল না, এ নিয়ে কখনো কোনো কথাই বলেনি। এমনকি তার আচরণেও সামান্যতম পরিবর্তন আসেনি। সম্প্রতি সে ফিল্মফেয়ারের সাক্ষাৎকারে বলল, আমি তাকে বৈষয়িক করেছি। এই কথাটা ভালো লেগেছে।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত