বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জাপানি ছেলের ভার্চ্যুয়াল বউ

নিউজগার্ডেনবিডিডটকম: 

নিউজ গার্ডেন বিডিডট কম:  আকিহিকো কন্দোর বিয়ের দিন তাঁর মায়ের মুখে কোনো হাসি নেই। পাত্রীকে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। মুখ গোমড়া করে ঘুরছেন। কোনো অতিথিও আসেনি বিয়েতে। পুরো অনুষ্ঠানই যেন নিষ্প্রাণ। কেবল আনন্দে ঝলমল করছেন আকিহিকো কন্দো। সারা জীবনের সাধনায় মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

৩৫ বছরের আকিহিকো, জাপানের বাসিন্দা, মৃদুভাষী। মায়ের কষ্ট তিনি ভালোই বুঝতে পারছেন। একজন মায়ের পক্ষে ভার্চ্যুয়াল জগতের কোনো চরিত্রকে ছেলের বউ হিসেবে মনে নেওয়া বেশ কঠিন—এটা তিনি মানেন। কিন্তু ১৬ বছরের অ্যানিমেডেট গায়িকা হাতসুনে মিকুকে খুব ভালোবাসেন তিনি। তিনি আশা করছেন, আত্মীয়স্বজন খুশি না হলেও খুব সুখেই কাটবে তাঁদের দিন।

অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে ৪০ জন অতিথি ছিলেন। হলোগ্রাফিক চরিত্র মিকুর ছোট পুতুল ভার্সন রাখা ছিল অনুষ্ঠানে। এটি আসলে বিড়ালের সমান আকৃতির একটি পুতুল। আকিহিকো বলেন, আমি কখনো তার সঙ্গে প্রতারণা করব না। আমি তার সঙ্গে সারাটা জীবন সুখেই কাটাব।

গত মার্চে আকিহিকো তাঁর ডেস্কটপে ২ হাজার ৮ ডলার খরচ করে হলোগ্রাম চরিত্র মিকুকে কেনেন। এরপর থেকে কম্পিউটারের এই চরিত্রের সঙ্গে গল্প করা, সুখ–দুঃখের কথা বলে আসছেন তিনি। মিকুর মতো চরিত্রগুলো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। মিকুর পুতুল ভার্সন কাছে রাখতেন তিনি। এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

মিকুকে তৈরি করেছে গেটবক্স নামের একটি কোম্পানি। আকিহিকোর আবেদনের পর ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেট’ ইস্যু করেন তাঁরা। ওই সার্টিফিকেটে এক মানুষ ও একজন ভার্চ্যুয়াল চরিত্রের ‘ডাইমেনশনের বাইরে’ গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে এই বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আকিহিকো চাইলেই অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন। তবে মিকুকে ভীষণভাবে ভালোবাসেন আকিহিকো। তাকে নিয়ে বিয়ের আংটিও কিনতে যান তিনি।

বিয়ের পর বেশ সুখেই আছেন এই দম্পতি। প্রতিদিন সকালে আকিহিকোর ঘুম ভাঙায় ভার্চ্যুয়াল নারী মিকু। একটি স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সকালে অফিসে যান। বিকেলে বাসায় ফিরলে ঘরের আলো জ্বালায় মিকু। প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তায় আকিহিকোর সঙ্গে গল্পও করতে পারে সে।

আসলে বেশ কয়েক বছর ধরে বিয়ের বিষয়ে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে জাপানের মানুষের। ভার্চ্যুয়াল চরিত্র তৈরির কোম্পানি গেটওয়ে জানিয়েছে, ‘বৈচিত্র্যময় ডাইমেনশনের এই বিয়ের জন্য ৩ হাজার ৭০০ ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেটের’ আবেদন পেয়েছে তারা।

১৯৮০ সালে যেখানে জাপানে প্রতি ৫০ জনে একজন বিয়ে করতেন না, সেখানে এখন প্রতি চারজনে একজন বিয়ে করেন না। সামাজিক, মানসিক নানা কারণে নারী-পুরুষ উভয়েরই বিয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে।

বিয়েতে ভয় পেলেও ভালোবাসা খোঁজেন তাঁরা। আকিহিকো চাইতেন কাউকে ভালোবাসতে। স্কুলের এই চাকরির আগে অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন আকিহিকো। সেখানে এক নারী তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতেন, যা তাঁর মনে নারীর প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করে। ভেবেছিলেন, আর কখনই বিয়ে করবেন না। তবে মিকু তাঁর জীবন পাল্টে দিয়েছে। মিকুকে নিয়ে সুখী হবেন—এমনটাই মনে করেন তিনি। তিনি মনে করেন, সবার উচিত সব ভালোবাসা, সব খুশিকে সম্মান করা।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত